দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে আগেই। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে সেই বাড়ি ভেঙে পড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল ইন্টারনেটে। সেচ দফতর সূত্রে জানা গেছে খালপাড় সংলগ্ন একশো থেকে দেড়শোটি বাড়ি এখন সমস্যায়। এলাকার লোক বলছেন প্রশাসন কোনও সাহায্য করছে না। মহকুমা প্রশাসন অবশ্য আগেই জানিয়েছে যারা সরকারি খাস জমি দখল করে বাড়ি করেছে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা করা হবে। যদিও পঞ্চায়েত বলছে অন্য কথা।
কয়েক দিনের আগেই ঘর খালি করার নোটিস দিয়েছিল সেচ দফতর। কিন্তু তার আগেই খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল একটা তিনতলা বাড়ি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আরও দশ-বারোটি। আগামী দিনে সমস্যায় পড়তে চলেছে শতাধিক বাড়ি।
কয়েক দিন আগে খাল সংস্কারের সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল একটি তিন তলা বাড়ি। পরে জানা যায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই সর্তকতা জারি করে বাড়িটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। খালের জমিতে থাকা বাড়ির অংশে দাগ দিয়ে গিয়েছিলেন সেচ দফতরের আধিকারিকরা। তা সত্ত্বেও বেআইনি ভাবে তৈরি ওই বাড়ির ভিতরের আসবাবপত্র ও ব্যবসার সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়নি। মাটি আলগা হয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়িটি।
রবিবার সকালে দাসপুর থানার দু'নম্বর ব্লকের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ওই এলাকায় দেখা দেখা গেছে আরও অন্তত দশ থেকে বারোটি বাড়ি যেকোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। তাই আশঙ্কায় দিন গুনছেন এলাকার বাসিন্দারা। যদিও সেই সব বাড়ির আসবাবপত্র ও দোকানের সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে গেছেন বাড়ির বাসিন্দারা।
স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সম্পাদক কালিপদ সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, “প্রশাসন আগে থেকে কোনও কিছু না জানিয়ে খাল সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। সেই দফতরের উচিত ছিল ওই অংশের মাটি না কেটে যেদিকে বসতবাড়ি নেই সেদিকে মাটি কাটা।” পঞ্চায়েতের প্রধান জয়শ্রী হাজরা দাবি করেছেন, “বেআইনি ভাবে খালের পাড়ে বাড়িগুলি তৈরি হয়েছে। ওই বাড়িগুলি বসতবাড়ি হিসাবে নয় ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পঞ্চায়েতে কোনও কর ওই বাড়িগুলির জন্য তাঁরা কর দেন না। গমরাই থেকে পাইরাসি পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে এখন। যে বাড়িগুলি ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে তাদের যাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় সে ব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নেবে। মানবিক কারণেই আমরা এটা করছি।”
কালিপদ সেনগুপ্ত বলেন, “পঞ্চায়েত পরস্পর-বিরোধী কথা বলছে। ওই ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল মানে সেখান থেকে কর পেত পঞ্চায়েত। এখন ওরা রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এভাবে ক্ষতিপূরণের কথা বলে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে।”