দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার ধানতলা থানার দৌলা গ্রামে বৌদিকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী হল এক যুবক। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন অনিন্দ্য সরকার (২৭) নামে ওই যুবক তাঁর বৌদি কাজল সরকারের (৩০) সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইলেও কাজল তাঁকে পাত্তা দিতেন না। তার ফলেই এই ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে শুক্রবার রাতে কাজলের স্বামী লিটন সরকার যখন বাইরে ছিলেন ঠিক তখনই বাড়িতে ঢোকে অনিন্দ্য। তারপর কাজলকে বারান্দায় নিয়ে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপায়। কাজলের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা সকলেই। তখন কোনওক্রমে পালিয়ে যায় অনিন্দ্য। প্রতিবেশীরাই কাজলকে রানাঘাট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ধানতলা থানার পুলিশ। তারপরে শুরু হয় অনিন্দ্য খোঁজে তল্লাশি। তবে তার হদিশ পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি আম বাগানের মধ্যে অনিন্দ্যর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বছর দশেক আগে কাজল সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয় পেশায় নির্মাণ কর্মী লিটন সরকারের। বিবাহিত জীবনে দম্পতির মধ্যে কোনও রকম বিবাদ ছিল না। তাঁদের আট বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
কাজলের বাবা শ্রীকৃষ্ণ সরকার ঘটনার কথা জানিয়ে অনিন্দ্য সরকার এবং তার বাবা ও মায়ের নামে ধানতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ধানতলা থানার পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আত্মঘাতী হওয়ায় এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
কাজলের মা জয়ন্তী সরকারের অভিযোগ তাঁর মেয়েকে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হত না। তবে দম্পতির বিবাহিত জীবনে সম্পর্ক ভালই ছিল। বিভিন্ন সময়ে অবশ্য কাজলের উপরে বিভিন্ন রকম অত্যাচার করত অনিন্দ্য। একসময় বিদেশে যাবে বলে লিটনের থেকে বেশ কয়েক হাজার টাকা ধার করেছিল অনিন্দ্য। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাদ হয়। পুলিশ সকলের বয়ান নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।