দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে যে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলার শাসকদল, তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে যেন সেই ক্ষতে অনেকটাই প্রলেপ পড়েছে। মনোবল তলানিতে ঠেকে যাওয়া শাসকদলের কর্মীরাও করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ আর খড়্গপুর সদর জয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দিলেন, এই উপনির্বাচনের জয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র তো বটেই, রাজ্যের কোথাও বাড়তি উৎসাহ নিয়ে বিজয়মিছিল করা যাবে না।
এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। ভোটগণনা চলাকালীন যখন ট্রেন্ড স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তখনই বলেছিলেন, “বিজেপি তাদের অহঙ্কারের ফল পেয়েছে। বাংলার মানুষ ঔদ্ধত্যকে মেনে নেয় না।” বিকেলে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “বাংলার পাপ, বিজেপি সাফ।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গঠনমূলক সহযোগিতা তাঁরা করবেন। কিন্তু কোনও ধ্বংসলীলার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যুক্ত হবে না।
সন্দেহ নেই উপনির্বাচন হলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল এই ভোটে। অনেকে বলেছিলেন, একুশের লিটমাস পরীক্ষা হয়ে যাবে এই তিন কেন্দ্রের উপভোটে। দেখার ছিল, গেরুয়া শিবির যে ঝড় তৈরি করেছিল লোকসভায়, ছ’মাস পর তা থাকে কিনা। একইসঙ্গে এও দেখার ছিল, তৃণমূল কী আরও পিছিয়ে পড়বে নাকি ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু ভোট শেষে দেখা গেল গেরুয়া ঝড় তো দূরের কথা, লোকসভায় বিজেপি যে আসনে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, এই উপনির্বাচনে সেই আসনও জিতে নিয়েছে তৃণমূল।
এদিন দুপুর বেলাই আসানসোলের মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দেখা গিয়েছিল অনুগামীদের নিয়ে উৎসবে মাততে। কিন্তু সন্ধেবেলা নবান্ন থেকে বেরনোর সময়ে মমতা জানিয়ে দিলেন, “কোনও বিজয়মিছিল হবে না। আমরা বিজেপির মতো নই।” খড়্গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ তৃণমূলের হাতে কোনও দিনই ছিল না। দল তৈরি হওয়ার ২২ বছর হতে চললেও এই দুটি কেন্দ্র হাতছাড়া ছিল তৃণমূলের। সেই আনন্দ যে উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে তা জানেন মমতা। তাই যে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তাঁর সাফ নির্দেশ, কোনও মিছিল করা যাবে না। কারণ তাঁর মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ জানেন, আসল লড়াইটা একুশে।