দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকালে বুনিয়াদপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রীকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগল জবাব আসতে। দুপুরে নদিয়ার পানিঘাটার জনসভা থেকে মমতাও পাল্টা দিলেন মোদীকে। নাম না করে বললেন, “বিজেপি নেতাদের বেশি দুঃসাহস হয়েছে। সাহস থাকা ভাল। কিন্তু দুঃসাহস নয়।”
কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের সমর্থনে মমতা বলেন, “এখানে এসে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করেছে? এটা দিল্লির ইলেকশন। আপনি জবাব দিন মোদীবাবু, আপনি কী করেছেন। বিজেপি কিচ্ছু করেনি। শুধু মানুষের মুণ্ডু কেটে ফুটবল খেলেছে। গণপিটুনি, আদিবাসীদের উপর আক্রমণ, দলিতদের উপর আক্রমণ আর সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ।” এ দিনের সভা থেকে মমতা এও বলেন, “দু’কোটি চাকরি দেবে বলেছিল, দেয়নি। ব্যাঙ্কে পনেরো লক্ষ টাকা দেবে বলেছিল, দেয়নি। মিথ্যে কথা বলতে বলতে ওদের জিভে পোকা পড়ে গিয়েছে।”
এ দিনও রাজ্য ধরে ধরে হিসেব দেন মমতা। জানিয়ে দেন কোনও ভাবেই দিল্লিতে আর মোদীর সরকার হচ্ছে না। অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল সব জায়গায় বিজেপি গোল্লা পাবে। তৃণমূল নেত্রী এ দিন বলেন, “কুকুর কামড়ালে যেমন জলাতঙ্ক হয়, মোদীর তেমন হারাতঙ্ক হয়েছে। তাই সব উল্টোপাল্টা বলছেন।” এ দিন মমতা কৃষ্ণনগরের প্রার্থীর সমর্থনে বলেন, “বিজেপি এলে সরপুরিয়া দিয়ে দিন। কিন্তু একটাও ভোট দেবেন না।”
দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরের সভা থেকে এ দিনও প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুজো করা নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “একটা করে কমলফুল ফোটান আর বাংলায় দুর্গাপুজো নিয়ে আপনাদের ঝঞ্ঝাট পোয়াতে হবে না।” নদিয়া থেকে মমতা বলেন, “আবার আজকে এসে বলেছে বাংলায় দুর্গাপুজো হয় না। বলুন মা-ভাই-বোনেরা, বাংলায় দুর্গাপুজো হয় কি হয় না? দুর্গাপুজোর মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে আমার গলা ব্যথা হয়ে গেল। চল্লিশটা ক্লাবের পিছনে ইনকাম ট্যাক্স লেলিয়ে দিয়েছে। আবার বড় বড় কথা!”
এমনিতেই নদিয়া জেলা নিয়ে স্বস্তিতে নেই তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। গোষ্ঠী কোন্দলের কাঁটা তো ছিলই। প্রার্থী ঘোষণার পরও গা ঝাড়া দিয়ে সব নেতারা না নামায় চটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার সব নেতাদের ডেকে নিয়েছিলেন নবান্নে। দিদির ধমক খাওয়ার পর অবশ্য সংগঠন ময়দানে নেমেছে। এ দিন মমতা বলেন, “আমি বারবার নদিয়া জেলায় এসেছি। এইমস-এর মতো প্রকল্প দিয়েছি। আবার আগামী দিনে আসব। কিন্তু আপনারা মহুয়াকে জেতান। বাংলায় বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটাই তৃণমূলকে জেতান। বাংলার নেতৃত্বে দিল্লির সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।”
মানুষের মুণ্ডুকেটে ফুটবল খেলা এবং হারাতঙ্ক নিয়ে তোপ মমতাকে পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েনি বিজেপি-ও। গেরুয়া শিবিরের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “কারা মানুষের মুণ্ডু নিয়ে ফুটবল খেলে তা গত পঞ্চায়েত ভোটে বাংলার মানুষ দেখেছে। আর কে হারাতঙ্কে উল্টোপাল্টা বকছে সেটাও মানুষ দেখছে। চিন্তানেই। দিদিমণি ২৩ মে জবাব পেয়ে যাবেন।”