দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুষ্ঠান ছিল ভাষা দিবসের। শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এ দিনের মঞ্চ থেকে পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়ে ফের সরব হলেন তিনি। সাফ জানালেন, পুলওয়ামা হামলায় যাঁরা দোষী তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু তা বলে এক শ্রেণির মানুষ যেভাবে সাধারণ কাশ্মীরিদের হেনস্থা করছে, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। বৃহস্পতিবার দেশপ্রিয় পার্কের ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সব কিছুকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার আত্মঘাতী জঙ্গি হানা আর তার জেরে মানুষে মানুষে বিদ্বেষের প্রসঙ্গ।
১৯৫২ সালে আজকের দিনেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন দমন করতে জারি হওয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন ছাত্ররা। ছাত্রদের মিছিলে গুলি চলে। শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার। মাতৃভাষার দাবিতে শহিদ হওয়া এই ছাত্রদের স্মরণেই বৃহস্পতিবার দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজন করা হয়েছিল একটি স্মরণসভার।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৫২ সালে যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন তাঁদের সবাইকে সম্মান জানান তিনি। এর পাশাপাশি বলেন, "বিশ্বে ভাষা সংক্রান্ত আর যে সব আন্দোলন হয়েছে এবং সেখানে যাঁরা শহিদ হয়েছেন আমরা তাঁদেরকেও সম্মান জানাচ্ছি। সব ভাষাই আমাদের কাছে সমান। বাংলার মানুষ সব ভাষাকেই ভালোবাসেন।" মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই বাংলায় প্রায় সব ভাষার মানুষই বসবাস করেন। আর তাঁদের সবাইকে সমান ভাবে সম্মান জানানোই বঙ্গবাসীর উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এরপরেই তিনি মুখ খোলেন পুলওয়ামার আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে। এই জঙ্গি হানাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মানুষের অমানবিক আচরণে মুখ্যমন্ত্রী যে বেশ ক্ষুব্ধ এ দিন তা স্পষ্টই বুঝিয়ে দিলেন তিনি। মমতা বলেন, "আমরা চাই দেশ এক থাকুক। এখানে কোনও ভাগাভাগি হবে না। সবাই সমান। কিন্তু একদল লোক ভাগাভাগির রাজনীতি করছে।" পুলওয়ামা হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যে দোষী, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু তাই বলে যাকে তাকে হেনস্থা করছে একদল ঘৃণ্য রাজনীতি মনস্ক লোক। আমি এই ভেদাভেদের সংকীর্ণ মানসিকতায় বিশ্বাস করি না।"
নাম না করে হলেও এ দিন নানা ভাবে বিজেপি'র দিকে তোপ দেগেছেন মমতা। তিনি বলেন, "যে কাশ্মীরি শালওয়ালা এত বছর শাল বিক্রি করেন তাঁকে দেখলে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। যে কাশ্মীরি চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে এ শহরের বাসিন্দা তাঁকে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। খালি জ্ঞান দেবে। কিছু বললেই সে পাকিস্তানের পক্ষে। একা ওরাই দেশপ্রেমিক। আমি এই থিওরিতে বিশ্বাস করি না। আগামী দিনেও করবো না।" তিনি আরও বলেন, "একটা ঘৃণ্য রাজনৈতিক দলের কিছু লোক দেশটাকে ভাগ করতে চাইছে। একদল লোকই ঠিক করে দিচ্ছে কে কী খাবে, কে কী পরবে, কে কী বলবে। কী ঔদ্ধত্য।"
অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ করতে হবে। বাংলা ভাষা দিয়েই কুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের পরাজিত করতে হবে।" তিনি বলেন, "আমরা চাই ইউনাইটেড ইন্ডিয়া। যেখানে কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। আমরা সবাইকে আপন করে একসঙ্গে চলবো। যাতে দেশ ভালো থাকে। সবাই ভালো থাকে।"