দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় বাংলার জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার পরিধি অনেকেটা বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, জীবন বিমা পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হল।
গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার সময়ে চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, আশা, আইসিডিএস-এর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার জীবন বিমার কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, এই পরিস্থিতিতে যাঁরা 'ফ্রণ্ট লাইন কর্মী' তাঁদের জন্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলার স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসক, নার্সরা কেন্দ্রের সেই সুবিধা পাবেন কিনা তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা রয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আগে এটা করা হয়েছিল ডাক্তার, নার্স আর আশা, আইসিডিএস কর্মীদের জন্য। এবার সেই পরিধিটা বাড়িয়ে দেওয়া হল।" মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিমার আওতায় পড়বেন সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মীরা। একইসঙ্গে যাঁরা ক্যুরিয়ার ডেলিভারি করেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক এবং পুলিশকেও এর আওতায় আনা হল। তাঁদের পরিবারও এই বিমার সুযোগ পাবে বলে জানান মমতা।
বিমার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, "তুমি বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলো। শুধু মৃত্যুতেই বিমা দিলে হবে না। অসুখ করলেও দেখতে হবে। এটা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়।"
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের সঙ্গে। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন, "আগামী দু'সপ্তাহ খুব ক্রুশিয়াল। ফলে আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। একটা ছোট ভুলের জন্য কিন্তু অনেক বড় খেসারত দিতে হতে পারে।"
এদিনও চিকিৎসক-নার্সদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনকে বলেন, কোনও কিছুতে টাকা পয়সা নিয়ে কার্পণ্য না করতে। যা লাগবে দিতে হবে।