দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে যখন বাংলার রাজনীতি উত্তাল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আরও ঝাঁঝ বাড়িয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি মোদীকে রাবণ বলে দিলেন দিদি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁকুড়া শহরের জনসভায় তৃণমূলনেত্রী বলেন, “চেহারা দেখুন, দেখতে যেন ৫৬ ইঞ্চি ছাতির একটা রাবণ।”
কংগ্রেস তাঁকে কী কী ভাষায় আক্রমণ করে, বুধবার সেই অভিধান খুলে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেসের এক নেতা আমাকে নর্দমার কীট বলেছেন। একজন বলেছেন পাগল কুকুর। এক প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী তো আমাকে বাঁদর বলেছিলেন। একজন আবার কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।” এখানেই থেমে থাকেননি মোদী। তিনি আরও বলেন, “ভাইরাস, হিটলার, অসভ্য ছেলে, ভাইরাস আক্রান্ত কুকুর, ইঁদুর, রাবণ, সাপ, বিছে, কত কীই না বলা হয়েছে আমাকে।” এ দিন মমতাও রাবণ বলে দিলেন তাঁকে।
এখানেই থামেননি দিদি। এ দিন সকালে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় জোড়া জনসভা করেন মোদী। সেখানে কয়লাখাদান, সিন্ডিকেট-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। মোদী বলেন, “এই এলাকার কয়লা খাদানগুলি থেকে টিএমসি নেতারা কেমন মাফিয়াগিরি চালায় আপনরা জানেন। কয়লাখাদান থেকে তৃণমূলের নেতারা টাকা কামাচ্ছে। আর শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছে না।” দুপুরে মমতাও তাঁর জনসভা থেকে সে সবের জবাব দিয়ে দেন। বলেন, “আমার দলে কয়লা মাফিয়া আছে প্রমাণ করতে পারলে ৪২টি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেব।” এরপর মোদীর উদ্দেশে দিদির চ্যালেঞ্জ, “যদি আপনি ভুল হন, তাহলে সবার সামনে ১০০ বার কান ধরে ওঠবোস করতে হবে।”
ভোটের প্রচারে মোদী বাংলায় যখন এসে যে ইস্যু তুলে বক্তৃতা করেছেন, মমতা দিনের দিনেই তার জবাব দিয়েছেন। এ দিন সকালেও ‘ভাতিজা’ নিয়ে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পাল্টা মমতা বলেন, “তুমি আমার পরিবার নিয়ে কথা বলতে এসো না। তুমি তোমার নিজের স্ত্রীকেই দেখো না। অন্যের পরিবার নিয়ে কথা বলা তোমার মুখে মানায় না।” শুধু তাই নয়, টাকা দিয়ে মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেও তোপ দাগেন মমতা। তাঁর কথায়, “মিথ্যেবাদী প্রধানমন্ত্রী একটা। এত মিথ্যে কথা বলেন যে কাউন্সিলর হওয়ারও যোগ্যতা নেই। টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে।”