দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে বেড়ে চলায় স্থানীয় ভাবে পদক্ষেপ করা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুর এলাকায়। কোথাও বাজারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কোথাও বাজার বন্ধ রাখা হচ্ছে পুর প্রশাসনের পরামর্শে। কোথাও আবার পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলায় করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি বিধাননগর পুর এলাকায়। তার পরেই রয়েছে বরাহনগর। তাই বরাহনগর তো বটেই একই সঙ্গে কামারহাটি ও পানিহাটি পুর এলাকায় মঙ্গলবার থেকে এক সপ্তাহ লকডাউন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই পুর এলাকাগুলিতে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব কিছু বন্ধ থাকবে। অটো ও টোটো চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
নিউটাউন এলাকায় চারটি বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পুরসভা, বাজার কমিটি ও পুলিশের বৈঠকে। আজ সোমবার থেকে নিউটাউন বাজার, গৌরাঙ্গনগর বাজার, জ্যোতিনগর বাজার এবং জগৎপুর বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একথা মাইকে করে প্রচারও করে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই চারটি বাজারে ভিড় হয় সবচেয়ে বেশি। ভিড় বেশি হলেই সংক্রমণ বাড়তে পারে। সে কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। করোনা সংক্রমণ রুখতে শনিবার নিউটাউন পুরসভা ভবনে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে চারটি বাজারের প্রতিনিধিরা এবং নিউটাউন পুর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিধাননগর পুলিশ উপস্থিত ছিল। সেখানে তিনটি বাজার বুধবার পর্যন্ত এবং একটি বাজার শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
গৌরাঙ্গনগর বাজার, জগৎপুর বাজার এবং নিউটাউন বাজার সোমবার থেকে তিন দিন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। অন্যদিকে জ্যোতিনগর বাজার টানা পাঁচ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চারটি বাজারকেই স্যানিটাইজ করা হবে। এ ব্যাপারে দমকলের সাহায্য নেওয়া হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে পরিস্থিতি ফের পর্যালোচনা করতে বৈঠক হবে পুরভবনে। সেখানে তিনটি পক্ষই হাজির থাকবে -- পুরসভা, পুলিশ ও বাজার সমিতি। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে বাজার পরের দিন খোলা হবে কিনা তা নিয়ে।
এখন জেলার বারাসত, মধ্যমগ্রাম, হাবড়া ও অশোকনগর পুর এলাকায় বাজার সকাল ছটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত খোলা থাকছে। বনগাঁ ও বসিরহাটে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই বাজার বন্ধ রেখেছেন। ফলে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী জেলায় এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৫৪৪ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৫৭৬। এর মধ্যে ৪,৪৭৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও সংক্রমণ রয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা ৩,৮৯০। জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১৩।