দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও খুঁজে পাওয়া গেল না ঝাড়গ্রামের রাজবাঁধে একটি কৃষিজমিতে বায়ুসেনার বিমান থেকে পড়ে যাওয়া সেই বোমাটি। সাঁকরাইল থানার পুলিশ ও বায়ুসেনার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুক্রবার সকাল থেকে ফের গ্রামবাসীদের বোমা খুঁজতে দেখা যায়। তাতেই প্রশ্ন উঠেছে যে বোমাটি যদি কোনও কারণে সক্রিয় থাকে এবং ফেটে যায় তাহলে কী হতে পারে।
বোমাটি ফাটার আশঙ্কা নেই – এমন আশ্বাস বায়ুসেনার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে কেউ এখনও দাবি করেননি। বোমা পড়ার ব্যাপারে বায়ুসেনা কিছু না জানালেও বোমাটি যে তাদের বিমান থেকেই পড়েছে সে ব্যাপারে গ্রামবাসীরা নিশ্চিত। তা না হলে পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে বোমা খুঁজতে গ্রামে হাজির হতেন না বায়ুসেনার আধিকারিকরা।
বোমাটি ভারী হওয়ায় এবং কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় সেটি মাটির গভীরে গেঁথে গেছে বলে জানানো হয়েছে। বোমাটি যেখানে পড়েছে সেই জায়গায় গভীর ভাবে গর্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
চাষের জমি হওয়ায় ভারী কোনও যন্ত্র এই জায়গায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই গ্রামবাসীদের সাহায্যে সেটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, কলাইকুণ্ডা থেকে বায়ুসেনার মহড়ার সময় দুধকুণ্ডি এলাকায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে বোমা ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জমিতে সার দেওয়ার সময় বিশ্বরঞ্জন মাহাত নামে এক কৃষক লক্ষ্য করেন, উল্কার মতো কিছু একটা পড়ে মাটিতে গর্ত করে ঢুকে গেল, তারপরেই বায়ুসেনার একটি বিমানকে তিনি চলে যেতে দেখেন। তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যের সাত থেকে আট কিলোমিটার আগে সেটি মাটিতে পড়ে। গ্রামবাসীরা বলছেন, “কপাল ভাল যে ফাঁকা জমিতে পড়েছে। গ্রামের মধ্যে বোমা পড়লে বড়সড় বিপদ হতে পারত।”
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার ভরত রাঠোর বলেছেন, “এই এলাকায় হামেশাই বায়ুসেনার মহড়া হয়। বৃহস্পতিবারও তেমনটাই চলছিল। তবে আচমকা নিশানা ভুল হয়ে চাষের জমিতে এসে পড়ে বোমা। এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”