
শেষ আপডেট: 13 September 2018 16:53
কিন্তু প্রশ্ন হলো যে অধ্যক্ষকে প্রথম দিনই কলেজে ঢুকতে হলো পুলিশ নিয়ে, তিনি সারা বছর কলেজ চালাবেন কী করে?
রূপাদেবীর উত্তর, “চেষ্টা তো করব। আগেই হাল ছাড়ব না। দেখি না কী হয়!”
ইতিমধ্যেই ছাত্রদের মারে তিন জন অধ্যাপক আহত। পার্থপ্রতিম প্রামাণিক, মিঠুন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জয়দেব দে। পার্থবাবুকে ভর্তি রাখা হয়েছে ডেবরা হাসপাতালে। আঘাত লেগেছে পেটে এবং পায়ে। কিন্তু এতসব করল কারা?
অভিযোগ, এসবের পিছনে নাকি দু’জন। এক, শাসক দলের প্রাক্তন ছাত্রনেতা সমর পাল এবং দুই, কলেজের টিআইসি সুতপাদেবী। এক অধ্যাপকের দাবি, সাত সকাল থেকেই দুনিয়ার লোক এসে জড়ো হয়েছিল কলেজ গেটে। শুধু ডেবরা? আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও নাকি লোক এসেছিল কলেজ গেটে। উদ্দেশ্য একটাই। প্রথম দিনই ভয় পাইয়ে দিতে হবে প্রিন্সিপ্যালকে। সমঝে দিতে হবে, যা বলব তাই করবেন।
কিন্তু কে এই সমর?
শাসক দলের একটি অংশের দাবি, সমর হলেন, সদ্য প্রাক্তন টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি জয়া দত্তর ঘনিষ্ঠ অনুগামী। তাঁদের আরও দাবি, জয়াকে যখন সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্যসভাপতির পদ থেকে, সমর তখন চলে গিয়েছিলেন মেঘের আড়ালে। যেই আবার রাজ্যসভাপতি ঠিক করার কমিটির আহ্বায়ক করা হলো জয়াকে, ময়দানে নেমে পড়লেন সমর।
সূত্রের খবর, ডেবরার ঘটনা কানে পৌঁছেছে শিক্ষামন্ত্রী এমনকী মুখ্যমন্ত্রীরও। ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ফোনও করেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতিকে। রূপাদেবীও জানান, তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে সব বলবেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল ছাত্রপরিষদের রাজ্য সভাপতি ঠিক করার যে সাত দিনের সময়সীমা দল বেঁধে দিয়েছে কমিটিকে, তা শেষ হতে আর দিন দুয়েক বাকি। এরমধ্যেই ওই কমিটির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে উঠে গেল ডেবরা তাণ্ডবের অভিযোগ। এখন দেখার ছাত্রফ্রন্ট নিয়ে কোন পথে হাঁটে শাসক দল।