দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ শুরু হতেই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের সব মানুষকে ছ'মাস বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, মে মাসের প্রথম চার দিনেই রাজ্যের প্রায় অর্ধেক রেশন গ্রাহক চলতি মাসের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে ফেলেছেন।
আলাপনবাবু এদিন তথ্য দিয়ে বলেন, "রাজ্যে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের ডিজিটাল রেশন কার্ড রয়েছে। এমন ৬৫ লক্ষ মানুষ আছেন যাঁদের ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাঁদের 'ফুড কুপন' দেওয়া হয়েছে। মে মাসের প্রথম চার দিনের হিসেব হচ্ছে—রাজ্যের ২১ হাজার রেশন দোকান থেকে চার কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেছেন। মোট ২৫ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বিলি হয়েছে এই চার দিনে।"
রেশন নিয়ে সারা এপ্রিল মাস জুড়েই অভিযোগের পর অভিযোগ উঠেছে জেলায় জেলায়। কোথাও ওজন কোথাও আবার খাদ্যশস্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বাংলার গণবণ্টন ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্বয়ং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। শুরুর দিকে যে কিছু সমস্যা ছিল তা স্বরাষ্ট্র সচিব এদিন মেনে নেন। তবে একই সঙ্গে বলেন, এখন সুশৃঙ্খল ভাবে সুষম বণ্টন হচ্ছে।
রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় পুরনো রেশন কার্ডের মাধ্যমে রেশন না পেয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে গত কিছুদিন ধরে। দু'দিন আগেই এ নিয়ে চূড়ান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হয় নদিয়ার শান্তিপুরে। সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য টোটোতে মাইক লাগিয়ে প্রচার শুরু করেন, যাঁদের কাছে পুরনো রেশন কার্ড আছে তাঁরাও রেশন পাবেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডিজিটাল রেশন কার্ড বা ফুড কুপন ছাড়া রেশন মিলবে না।
প্রসঙ্গত এই প্রথম করোনা সংক্রান্ত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ বদল করল নবান্ন। এতদিন পর্যন্ত হয় মুখ্যমন্ত্রী নয় মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠক করতেন। এদিনই প্রথম ভিডিও কনফারেন্সে বসলেন স্বরাষ্ট্রসচিব।
এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ করা হয়েছে রাজ্যের তরফে। স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার যে ডাল দেবে বলেছিল তা এখনও এসে পৌঁছয়নি। তাই তা রেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দেওয়া যাচ্ছে না”।
বিজেপি এর আগে অভিযোগ করেছিল, রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী অন্ন যোজনার চাল এসে পড়ে রয়েছে তবু রাজ্য তা গ্রহণ করছে না। এমনকি এ নিয়েও রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইট করে বলেছিলেন, "রাজনীতি দুরে সরিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী অন্ন যোজনার চাল গ্রহণ করুক রাজ্য।" এফসিআই গুদাম থেকে সেই চাল গ্রহণ করা হলেও ডাল যে আসছে না বলে সে কথাটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব। যাতে সাধারণ মানুষ তা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারেন এবং কোনও বিভ্রান্তি যেন না থাকে।
রেশনে অব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে তাও এদিন উল্লেখ করেছেন আলাপনবাবু। তিনি জানান, “এখনও পর্যন্ত ৩৫৯ জন রেশন ডিলারকে শোকজ করেছে খাদ্য দফতর। তার মধ্যে ৬৪ জনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১৫ জন রেশন ডিলারকে। তাঁদের কারও জরিমানার অঙ্ক ১৫ হাজার টাকা, কারও চার লক্ষ টাকা”।