দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের দিঘায় উঠল ইলিশ। গত দু’দিনে প্রায় দেড় টন ইলিশ উঠেছে দিঘাতে। বেশ কিছু বোট ফিরেছে সমুদ্র থেকে। কিন্তু এখনও যোগানের থেকে চাহিদা কম। ফলে বাজারে ইলিশের দাম চড়া। মধ্যবিত্ত বাঙালির নাগালের বাইরে একটু বড় ওজনের ইলিশ। রসনা তৃপ্ত করতে হচ্ছে ছোট সাইজের ইলিশ খেয়েই। তবে এই দু’দিন দিঘায় ওঠা ইলিশের ওজন অন্য সময়ের থেকে ভাল।
জানা গিয়েছে, দিঘায় এদিন বেশিরভাগই উঠেছে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের দাম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রতি কেজি। ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিকোচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে। ফলে একটু বেশি ওজনের ইলিশ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেই। কম ওজনের ইলিশ কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের দেখা মেলেনি দিঘায়। এদিন প্রায় ৭টি বোট আসার খবর পাওয়া ইলিশের আশায় মানুষ ভিড় জমায় বাজারে। কিন্তু দাম চড়া থাকায় অনেককেই বিফল মনে ফিরতে হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনেও বেশ কয়েকটি বোট আসার কথা। আমদানি একটু বাড়লে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৬ জুলাই মরসুমের প্রথম ইলিশ ওঠে দিঘায়। পয়লা জুলাই বড় মাপের ট্রলার এবং ইলিশ ধরার ভাসানীগুলি পাড়ি দেয় গভীর সমুদ্রে। তার মধ্যে কয়েকটি ট্রলার ৬ জুলাই সকালে ভিড়ে দিঘার মোহনায়। মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়ার আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। এতদিন সেই অবস্থা ছিল না। এমনকি গত বছরও ছিল না ইলিশ ধরার এমন অনুকূল পরিবেশ। ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বইতে শুরু করেছে পূবালী হাওয়াও।
মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্মকর্তা শ্যামসুন্দর দাস বলেন, অনেক প্রতীক্ষার পরে এমন ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। প্রথমে যোগান কম হলেও ধীরে ধীরে আমদানি বাড়ছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যের সব বাজারে আমরা তা পৌঁছে দিতে পারব। ট্রলারের মালিক বিজু পট্টনায়ক বলেন, গত দু’বছরে আমরা প্রায় ধরাশায়ী হয়ে পড়েছিলাম। এবার জালে ইলিশ পড়ছে। বেশি পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়লে আমরা তা রাজ্যের বাইরেও তা রফতানি করতে পারব বলে আশা করছি।
করোনার জন্য এবছর প্রথম দিকে সমুদ্রে ট্রলার নামানো সম্ভব হয়নি। গত মাসের শেষ দিকে অনেকের জাল প্রস্তুত না থাকায় এবং গ্রামবাসীদের একাংশের আপত্তিতে ট্রলার শেষ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেয় পয়লা জুলাই। এবার জালে ইলিশ পড়েছে। ট্রলারও ফিরতে শুরু করেছে।