দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই প্রাথমিকে ১৬৫০০ শিক্ষক নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। আজ বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল। এদিন শুনানিতে প্রাথমিক টেট নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল হাইকোর্ট। জানিয়ে দেওয়া হল রাতারাতি নিয়োগ হলে পদক্ষেপ করবে হাইকোর্ট। আগামী সোমবার টেট সংক্রান্ত সব মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি।
এদিন বিচারপতির সামনে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, মালদা ও বাঁকুড়ায় মাত্র ৬ ঘণ্টায় ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। রবিবার ইন্টারভিউর শেষদিন। সেদিন রাতেই নিয়োগ তালিকা তৈরি হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এই বক্তব্যের পরে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বলেন, রাতারাতি নিয়োগ তালিকা তৈরি হয়ে গেলে হাইকোর্টও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। টেট সংক্রান্ত সব মামলার শুনানি আগামী সোমবার হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি। সেদিন তিন থেকে চারটি ক্যাটাগরিতে টেট মামলা শুনবে আদালত, এমনটাই জানা গিয়েছে।
গতকাল দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে মামলাকারীর অভিযোগ, ন্যাশনাল স্কুল অফ টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই-র গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতি বছর রাজ্যের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষা নিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই এনসিটিই গাইডলাইন না মেনে ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ বছর কোনও পরীক্ষা নেয়নি। অথচ ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় যাঁরা যোগ্যতার কারণে চাকরি পাননি তাঁদের পুনরায় নিয়োগের জন্য ২০২০ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ন্যাশনাল স্কুল অফ টিচার এডুকেশনের গাইডলাইনের পরিপন্থী। এটি সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ নম্বর ধারার পরিপন্থী বলেই অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে মামলাকারী বিবেক গাজীর পক্ষে আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, রাজ্য সরকার যদি এই ১৬৫০০ পদে নিয়োগ সম্পূর্ণ করে তাহলে ২০২১ সালে প্রাইমারি শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য কোনও শূন্যপদ থাকছে না। তাহলে কী কারণে ৩১ শে জানুয়ারি টেট পরীক্ষা হতে চলেছে তা স্পষ্ট নয়। আশিসবাবু আরও জানান, ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যাঁরা সফল হয়েছিলেন তাঁদের নিয়োগ সম্পূর্ণ হয় ২০১৫ সালে। কিন্তু কিছু টেট পাস করা প্রার্থীর প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন অর্থাৎ ডিএড বা ডিএলএড না থাকায় তাঁরা অসফল হন। পরবর্তীকালে তাঁরা তাদের ডিএড কোর্স সম্পন্ন করেন। এর মধ্যেই ২০১৭ সালে টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকার। কিন্তু কোনও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ প্রতি পদে বেআইনি কাজ হয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর।
এখন দেখার সোমবারের শুনানিতে হাইকোর্ট কী বলে।