দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে গেল উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ১ নম্বর এবং গোয়ালপোখর ২ নম্বর ব্লকের চাকুলিয়া থেকে সাহাপুরের সংযোগকারী রাস্তা ও কালভার্ট। মাস পাঁচেক আগে তৈরি হওয়া কালভার্ট ভেঙে ভেসে যাওয়ার পরে এলাকার লোকজন প্রশ্ন তুলেছেন এই কালভার্ট তৈরিতে ব্যবহার করা মালমশলার গুণমান নিয়ে।
উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে ব্যাপক ভাবে বৃষ্টিপাত চলছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর থেকে জানা গেছে গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৯.৬ মিলিমিটার যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি। গত এক সপ্তাহের হিসাবে বৃষ্টি ১৯ শতাংশ কম হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বৃষ্টির জেরে গোয়ালপোখরের প্রায় সব কৃষিজমি এখন জলের তলায়। দুর্যোগের ব্যাপারে প্রশাসন আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। তবে এমন পরিস্থিতি হবে তা এলাকার লোকজন ভাবতেও পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্মরণকালে তাঁরা এমন বৃষ্টি দেখেননি।
বুধবার রাত থেকেই চাকুলিয়া থানা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে বৃষ্টি মাঝে মধ্যে থামলেও বেলার বাড়ার পর থেকে বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। এলাকার সব চাষের জমি জলের নিচে চলে যায় বেলা একটু গড়াতেই। চাকুলিয়া থেকে সাহাপুরের সংযোগকারী রাস্তা ভেসে যাওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় ওই দুই জায়গার মধ্যে। ফলে সমস্যায় পড়ে যান মানুষজন। চাকুলিয়া, বালিগাড়া ও তার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাহাপুর হয়ে গোয়ালপোখর ১ নম্বর ব্লকে যেতে হলে এখন কম করে ৩০ কিলোমিটার বেশি রাস্তা ঘুরতে হবে।
গোয়ালপোখর ১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার যে সব বাসিন্দা সাহাপুর হয়ে চাকুলিয়া, কানকি বা ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দিকে যাতায়াত করেন তাঁদেরও ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। সব চাষের জমি ভেসে যাওয়ায় ওই এলাকার কৃষিকাজে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে বন্যা হয়ে যেতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌলানা মহম্মদ জামসেদ আলম বলেন, “সেতুটা খুব বাজে ভাবে ভেঙে গেছে। কিছুদিন আগেই এই সেতু বানানো হয়েছিল। নিম্নমানের জিনিস দিয়ে তৈরি হয়েছিল বলেই তা এভাবে ভেঙে গেছে বলে আমার মনে হচ্ছে।” এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য গোলাম রসুল বসেন, “নিম্ন মানের জিনিস দিয়ে কালভার্ট তৈরির অভিযোগ যখন উঠেছে তখন আমরা অবশ্যই তদন্ত করে দেখব। তবে একথাও ঠিক যে প্রবল বর্ষণ হয়েছে। বৃষ্টির তোড়েই সব ভেঙে গেছে। মাস পাঁচেক আগে এটি তৈরি হয়েছে।”
প্রবল বর্ষণে বালিগাড়া ও চাকুলিয়া থানা এলাকা কার্যত জলের তলায় চলে গেছে।