দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতভর পুলিশি টহলদারিতে উত্তর ২৪ পরগনার নিউটাউন থানা এলাকার তিন জায়গা থেকে শুক্রবার রাতে মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি এবং তরল মাদক পাচার করা-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আজ শনিবার তাদের বারাসত আদালতে তোলা হবে।
নিউটাউনের কোল ভবনের কাছে শুক্রবার রাতে সজল হালদার নামে এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত সজলের বাড়ি স্থানীয় সুলংগুড়ি এলাকায়। তার কাছ থেকে কয়েক দিন আগে চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ মাসের ১৭ তারিখ নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকার ফোন চুরি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি আর কোনও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র মারফত খবর পেয়ে নিউটাউনের ডিএলএফ ওয়ানের পিছনের অংশে শুক্রবার রাতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে দশ থেকে বারো জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। পুলিশকে দেখে তারা পালানোর উপক্রম করে। কয়েক জন পালিয়েও যায়। তবে সেই দলের দু’জনকে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের নাম বিশ্বজিৎ হালদার ও সৌমিক ঠাকুর। তাদের এক জনের বাড়ি নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে এবং অপর জনের বাড়ি ঘুনির টিয়াবাগান এলাকায়। তাদের কাছ থেকে একটি ভোজালি, একটি তালা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত ‘লক কাটার’ যন্ত্র, একটি টর্চ লাইট প্রভৃতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেরা করে দলের অন্যদের হদিশ পেতে এই দুই দুষ্কৃতীকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য বারাসত আদালতে আবেদন করতে পারে পুলিশ।
স্থানীয় থাকদাঁড়ি লোহারব্রিজ এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তরল মাদক সমেত এক জনকে গ্রেফতার করে নিউটাউন থানার পুলিশ। তার নাম সুব্রত সিকদার। বাড়ি যাত্রাগাছি আরআর সাইড এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে তরল মাদক (কোডাইন ফসফেট লিকুইড মিক্সচার) উদ্ধার করা হয়েছে। এই তরল মাদক চক্রে আর কেউ জড়িয়ে আছে কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তাকেও আজ বারাসত আদালতে তোলা হবে।
লকডাউনের সময় রাজ্যে অপরাধের লেখচিত্র নিম্নমুখী হয়ে গিয়েছিল। লকডাউন ধাপে ধাপে শিথিল হয়ে এখন আনলক পর্যায় চলছে। রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম এবং লোকাল ট্রেন ও মেট্রো রেল চলাচল বন্ধ থাকলেও জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তার পরেই ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছেন গ্রাফ। শুক্রবার রাতে শুধুমাত্র নিউটাউন এলাকা থেকে চার দুষ্কৃতীর ধরা পড়া সে কথা প্রমাণ করল।