দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল প্রাক্তন এক সিআরপিএফ আধিকারিকের। জেলার বড়জোড়া থানার মালিয়াড়া ফাঁড়ির অধীনে মাইলগোড়া কাছে একটি স্যালাইন কারখানার সামনে শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্লভপুরগামী একটি ডাম্পারের সঙ্গে উল্টোদিক থেকে আসা মালিয়াড়াগামী একটি ছোট চার চাকা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তাতে মারা যান ছোট গাড়ির চালক তথা শ্রীচন্দনপুরের বাসিন্দা নিমাই ঘোষ। তিনি আগে সিআরপিএফের আধিকারিক ছিলেন বলে এলাকা সূত্রে জানা গেছে। মৃত প্রাক্তন জওয়ানের বয়স ৫৪ বছর। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই গাড়িতে থাকা দু’জন আরোহী। তাঁরা তিন জনে একই পরিবারের বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
সিআরপিএফের প্রাক্তন আধিকারিক ছাড়াও ওই গাড়িতে ছিলেন বিকনার বাসিন্দা কাশীনাথ ঘোষ। তিনি পেশায় স্কুল শিক্ষক, বয়স ৩৩ বছর। মাথায় আঘাত নিয়ে কাশীনাথকে প্রথমে বড়জোড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই চার চাকা গাড়িতে ছিলেন বছর একুশের ছাত্র শুভজিৎ ঘোষও। তাঁকেও প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাজবাঁধের গৌরীদেবী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। তারা দ্রুত দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিমাই ঘোষকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ঘাতক ডাম্পারটিকে চিহ্নিত করে ধরে ফেলেছে। গাড়ির চালক ও খালাসিকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল সে ব্যাপারে পুলিশ তাদের থেকে জানার চেষ্টা করছে। পুলিশ এব্যাপারে আহতদের জবানবন্দিও নেবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ওই গাড়ির চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
একই দিনে হাওড়াতেও একটি ডাম্পার ছোট গাড়িকে ধাক্কা মারলে সাত জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।
লকডাউন উঠে আনলক চালু হওয়ার পরে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা আচমকা বেড়ে গেছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভ্যাসে কোনও বদল হয়নি। ফলে আনলক ১ পর্বে দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।