
শেষ আপডেট: 31 October 2020 06:15
জানা গিয়েছে, হাজার হাজার কিউসেক জল বেরিয়ে যাচ্ছে ব্যারেজ থেকে। এখনও ভাঙা গেট মেরামতির কাজ শুরু হয়নি। পশিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার মানুষ এই ব্যারেজের জলের উপরেই নির্ভরশীল। এখান থেকেই দুর্গাপুর ও আসানসোল পুরসভা বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ করে। কিন্তু লকগেট ভেঙে পড়ায় তাতে বাধা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১৭ সালে একই ভাবে ব্যারেজের ১ নম্বর গেট ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময় জলশূন্য হয়ে যায় ব্যারেজ। ফলে জল সংকটে পড়েছিলেন এই দুই জেলার মানুষ। সেটা যাতে এবার না হয় সেদিকে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দুর্গাপুর নগর নিগমের মহানাগরিক দিলীপ অগস্তি জানিয়েছেন, শহরে যাতে পানীয় জলের সংকট না হয় তার জন্য পুরসভা প্রস্তুত রয়েছে। যে সব সংস্থা জল সরবরাহ করে তাদের বলা হয়েছে দু’দিনের মতো জল মজুত করে রাখতে। যাতে মেরামতির কাজ শুরু হলেও জল সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়। পানীয় ও রান্নার জল তাঁরা সরবরাহ করতে পারবেন বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই সময় জল অপচয় না করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেচ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সব জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে দুর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শহর জুড়ে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে করে সাধারণ মানুষ অযথা জল অপচয় বন্ধ করেন।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দুর্গাপুর ব্যারেজের লকগেট আগে থেকে কেন মেরামত করা হল না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। তাঁর অভিযোগ, কেন বছর তিনেক আগে এক নম্বর লকগেট ভাঙার পরও সেই অর্থে কোনও উদ্যোগ সরকারী স্তরে নেওয়া হল না। রাজ্য সরকারের গাফিলতিতেই ফের এত বড় বিপত্তি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপি সাংসদের অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন দুর্গাপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল। তিনি বলেন, আগের ঘটনা ঘটার পর ধাপে ধাপে লকগেট মেরামতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখানে এই ৩১ নম্বর গেটও ছিল। এরই মধ্যে শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। অযথা রাজনীতি করে লাভ নেই। তার চেয়ে সবাই মিলে সমস্যা সমাধান করা উচিত বলেই জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়ার আগে পরিস্থিতি বুঝতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সিটু ইউনিয়নের নেতৃত্ব বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শেখর মুখোপাধ্যায় প্রমুখকে নিয়ে দুর্গাপুর ব্যারাজে ছুটে গেলেন দুর্গাপুর পূর্বের সিপিআই(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।
সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে জলের যা গতিবেগ তাতে লকগেট মেরামতি শুরু করা যাবে না। জল একটু কমলে তারপরেই তা শুরু করা যাবে। ততক্ষণে কতটা জল বেরিয়ে যাবে তা নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তিন বছর আগের স্মৃতি মনে পড়ছে তাঁদের। অবশ্য এই গেট ভাঙা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বড়জোড়া থানার পুলিশ।