দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপৎকালীন সময়ে জেলার পুলিশ কর্মীদের সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের ছুটির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রায়গঞ্জে একথা জানান রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র। প্রথমে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় রাধিকাপুরে পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে বিএসএফের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরে তিনি রায়গঞ্জের বোগ্রামে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপারের দফতরে যান।
রাজ্যের সমস্ত পুলিশকর্মীকে সুরক্ষিত থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে। সুরক্ষামূলক একাধিক পদক্ষেপও করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে চাইছেন সেভাবে তাঁদের আলাদা করে ছুটি দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। পুলিশকর্মীদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন বীরেন্দ্র। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পরই এবিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
লকডাউন মেনে চলার ব্যাপারে পুলিশের কাজে সাহায্য করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন বীরেন্দ্র। আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার আবেদনও তিনি করেন।
এদিন রায়গঞ্জে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মীনা, আইজি উত্তরবঙ্গ আনন্দ কুমার, আইজি রায়গঞ্জ সার্কেল জয়ন্ত পাল, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমার, ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার সচিন মক্কর প্রমুখ।
বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজি। এদিন সীমান্ত এলাকায় সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছেন বলেও জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব না ছড়ানোর আবেদন করেন সাধারণ মানুষের কাছে। আবেদন পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেছে নেন সংবাদমাধ্যমকে। পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পুলিশকর্মীদের কী কী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন আছে তাও ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, “এই অসময়ে পুলিশকর্মীদের সুরক্ষিত থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সমস্ত ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো কী ভাবে তাঁদের ছুটির বন্দোবস্ত করা যায় তা ঠিক করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি করোনা নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করেছি।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এখন পুলিশকে করোনাভাইরাস নিয়ে লোককে সচেতন করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে হচ্ছে এবং লকডাউন ঠিক মতো মানা হচ্ছে কিনা সেদিকেও পুলিশকে নজর দিতে হচ্ছে। তাই ছুটি নিতেই পারছেন না পুলিশকর্মীরা।