
শেষ আপডেট: 26 September 2019 06:42
এই সার্কুলারকে অমানবিক বলে তোপ দেগেছেন সুশান্ত ঘোষ। প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, “একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এমন সার্কুলার কোনও মানবিকতা সম্পন্ন কমিটি করতে পারে না।” স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সব উপেক্ষা করে তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। দ্য ওয়াল-এর তরফে সিপিএমের হুগলি জেলার সম্পাদক দেবব্রত ঘোষের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি। প্রতিক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।
কিন্তু হাজারো প্রশ্নে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সিপিএমের অন্দরে। কী প্রশ্ন? সুশান্ত ঘোষ নিজেই প্রশ্ন তুলে বলেন, “যখন অনিল বসু প্রয়াত হলেন, তখন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা অনিল বসু লাল সেলাম বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল বিশাল পোস্ট করেছিলেন। কই তাঁদের ক্ষেত্রে তো কোনও ব্যবস্থা হয়নি!” জেলার এক তরুণ নেতা বলেন, “সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ও তো পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন। তাঁর বেলায় তো এমন দেখা যায়নি। তাহলে কি কমিউনিস্ট পার্টিতে আজকাল একেক জনের জন্য একেক রকম গঠনতন্ত্র তৈরি হচ্ছে নাকি?”
হুগলির এক সিপিএম নেতার কথায়, “অনিলদা যে দিন মারা গেলেন, সে দিন সিআইটিইউ-র একটা পদযাত্রা চলছিল। অনেক নেতা সেই কর্মসূচি ফেলে রেখে অনিলদার জন্য ছুটেছিলেন। তরুণ কিছু নেতা গিয়ে তাঁর মরদেহে দলীয় পতাকা দিয়েছিলেন। কই তখন তো জেলা কমিটির টনক নড়েনি! মৃত্যুর কয়েকদিন পর যে স্মরণানুষ্ঠান হয়েছিল সেখানেও সুশান্ত ঘোষ, তন্ময় ভট্টাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকী অনিলদার সঙ্গে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক থাকা রূপচাঁদ পালও উপস্থিত ছিলেন। তখন এই শৃঙ্খলার বুলি কোথায় ছিল?” উদ্যোক্তাদের তরফে বলা হচ্ছে, যতই শ্রীরামপুরের কুমিরজলা রোডের সিপিএমের জেলা দফতরের কাচের ঘর থেকে ফতোয়া আসুক। সে সব উড়িয়েই স্মরণ সভা হবে।
এই সার্কুলার এরিয়া কমিটিগুলিতে যাওয়ার আগে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় হুগলির ‘কপিবুক’ সিপিএম নেতাদের অনেকে সরষের মধ্যে ভূত দেখছেন। তাঁদের কথায়, সম্পাদকমণ্ডলীর কেউ কেউ এটা করেছেন। তবে সব দেখে অনেকে বলছেন, ভোট ৭ শতাংশ। কিন্তু কোন্দলে তৃণমূলের প্রায় কাছাকাছি অবস্থান করছে সিপিএম। সে হুগলি হোক উত্তর চব্বিশ, হাওড়া হোক বা কলকাতা।