দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনির্বাচন এগিয়ে আসতেই বর্ধমানে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সময়ে সোমবার রাতে আক্রান্ত হলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শঙ্খশুভ্র ঘোষ। রাত ন’টা নাগাদ তাঁর উপরে হামলা করে একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, হামলাকারীরা তৃণমূলে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোক।
গত সপ্তাহে বর্ধমান জেলায় এসে সভা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পর্যবেক্ষক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তখনই তিনি স্পষ্ট করে দেন, গোষ্ঠী কোন্দল ভুলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সভাতেও অবশ্য কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। বের করে দেওয়া হয় দলের এক জেলা পরিষদ সদস্যকে।
সেদিন ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিয়েছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী চান প্রত্যেক নেতা যেন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে প্রচার করেন।
সেই ঘোষণা মতো সোমবার রাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর শঙ্খশুভ্র ঘোঘ। বছর দেড়েক আগে বর্ধমানে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তার আগে শঙ্খশুভ্র ছিলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
জনা দশ-বারো সমর্থককে নিয়ে তিনি প্রচার করছিলেন। তিন নম্বর শাঁখারিপুকুর এলাকায় আচমকাই জনা কুড়ি লোক লাঠি, রড প্রভৃতি নিয়ে চড়াও হয় তাঁদের উপরে। কাউন্সিলরকে মারধর করে তারা চলে যায়। এই ঘটনায় শঙ্খশুভ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসা করার পরে রাতেই অবশ্য তাঁকে ছেড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফিরে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
শঙ্খশুভ্র অভিযোগ করেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলকর্মী মন্টু মজুমদার-গোষ্ঠী এই হামলা করেছে। তিনি জানান, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন মন্টু মজুমদার, দুর্গাপদ দাস, হাসান আলি, দীপক সূত্রধর প্রমুখ। কাউন্সিলর ছাড়া অন্য কাউকে অবশ্য সে ভাবে আঘাত করা হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁদের সঙ্গে এখনও কোনও ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার কথা দলের জেলা সভাপতিকেও জানিয়েছেন আক্রান্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর। তিনি বলেছেন পুরভোটের প্রচার নয়, দলের নির্দেশে দলীয় কর্মসূচি প্রচার করতে গিয়ে যদি দলের লোকের হাতেই আক্রান্ত হতে হয় তা হলে কাজ করা মুশকিল হয়ে যাবে।
পুরভোট এগিয়ে আসতেই টিকিটের জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। গত পুর নির্বাচনে জয়ের সুবাদে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে টিকিটের দাবিদার শঙ্খশুভ্র ঘোষ। অভিযোগ, বিরোধী গোষ্ঠী চাইছে না এবারে শঙ্খশুভ্র টিকিট পান। তাই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। পরে প্রচার করা হবে যে, আগের পুরবোর্ডে থাকার সময় কাজ করেননি বলে এখন এলাকায় ঢুকলেই মারধর করা হচ্ছে প্রাক্তন কাউন্সিলরকে – এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।