দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম বর্ধমানের হীরাপুর থানার রাধানগর রোডে সোমবার সন্ধ্যারাতে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক কিশোরের। তার নাম স্বর্ণদীপ সিং কোহলান, বয়স বারো বছর। এই ঘটনায় পুলিশ তার বাবা ভূপিন্দর সিং কোহলানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভূপিন্দর জানান, তিনি ছেলের জন্য শিঙাড়া কিনতে গিয়েছিলেন ঘরে তালা লাগিয়ে। ফিরে এসে দেখেন ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁদের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় স্বর্ণদীপকে।
সোমবার রাত নটা নাগাদ স্বর্ণদীপকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারনা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাকে। পুলিশও সেকথাই মনে করছে।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ভূপিন্দর জমির দালালি করেন। স্বভাবে তিনি বদমেজাজি হওয়ায় এলাকার লোকজনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল না। নিজের ভাইয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ ছিল। ভেলোরে চিকিৎসারত অবস্থায় ২০১২ সালে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তার পর থেকে ছেলে স্বর্ণদীপকে নিয়ে তিনি থাকতেন। সে বার্নপুরের গুরু নানক হাইস্কুলে পড়ত।
ভূপিন্দর সম্প্রতি অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। সেটি সে কোথা থেকে পেয়েছে তা বলতে পারছে না। মঙ্গলবার সকালে তাকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানেও একপ্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
অন্য আর একটি সূত্রের খবর, বহু দিন আগেই ভূপিন্দর বার্নপুরের কোনও এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এখনও সেই সম্পর্ক রয়েছে। স্বর্ণদীপ তা মানতে রাজি হয়নি। অভিযোগ, সে কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে।
আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পশ্চিম) অনিমিত্র দাস বলেন, “আমরা এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্ত চলছে। এখন এর বেশি কিছু বলা যাবে না।” পুলিশ দুপুর দুটো পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। আজই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।