দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মাথা কেটে সতেরো বছরের তরুণীর খুনে অভিযুক্ত যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। খুন করার পরে বুধবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল অভিযুক্ত আনন্দ বাগ ওরফে অজিত (৩৭)। বুধবার রাতে জয়পুর থানার কাশমলিতে নদীর ধারে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে রাতেই পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৃষা বাগ (১৭) নামে গ্রামেরই এক তরুণীকে বহু দিন ধরেই প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল আনন্দ। আনন্দ সর্ম্পকে তৃষার কাকা। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা। বছর খানেকের মধ্যে তৃষাকে বেশ কয়েক বার আনন্দ প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তৃষা রাজি হয়নি। তাই আনন্দ তাঁকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ। বিষয়টি তৃষা তাঁর বাবাকে জানান। তখন তৃষার বাবা আনন্দকে ডেকে মেয়েকে বিরক্ত না করতে বলেন এমনকি আনন্দকে সতর্ক করে দেন।
এনিয়ে পরে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়ে যায় যদিও এরপরেও আনন্দ তৃষাকে উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করেনি। গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে মাস ছয়েক আগে আনন্দকে সাবধান করে দেওয়া হয়। তখন আনন্দ নিজের ভুল স্বীকার করে সকলের সামনে ক্ষমা চেয়ে নেয়। সে তৃষাকে আর কখনও বিরক্ত না করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ফাঁকা জায়গায় তৃষাকে একা পেয়ে পথ আটকে দাঁড়ায় আনন্দ। দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আনন্দ আচমকা কাটারি দিয়ে তৃষার গলায় কোপ মেরে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দেয়। তারপরে বাইকে চেপে গ্রাম ছেড়ে পালায়।
তৃষাকে খুনের কথা জানাজানি হওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। সারা দিন আনন্দর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীরা তখন জানিয়ে দেন, সালিশি সভায় আনন্দ ক্ষমা চাইলেও ভিতরে ভিতরে সে তৃষাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। এদিন একা পাওয়ায় সে তৃষাকে খুন করে পালিয়েছে। তবে রাতেই তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।