সিজিওতে গেলেন না রাজীব, আইনি পরামর্শ নিচ্ছে সিবিআই, নাটকীয় তৎপরতা তদন্ত এজেন্সির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষকবচ তুলে নেওয়ার পর পরই কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে নোটিস দিতে তাঁর বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। বলা হয়েছিল, শনিবার সকাল দশটার সময় সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে হাজিরা দিত
শেষ আপডেট: 14 September 2019 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষকবচ তুলে নেওয়ার পর পরই কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে নোটিস দিতে তাঁর বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। বলা হয়েছিল, শনিবার সকাল দশটার সময় সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে হাজিরা দিতে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও রাজীব সিবিআই দফতরে হাজিরা না দেওয়ায়, নাটকীয় তৎপরতা শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
হাইকোর্টের বিচারপতি মধুমতী মিত্র গতকাল রাজীব মামলায় রায় ঘোষণার সময় বলেছিলেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। রাজীব কুমার স্পেশাল ট্রিটমেন্ট পেতে পারেন না। তদন্ত এজেন্সি তাঁকে জেরার জন্য ডাকলে তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। প্রয়োজনে তাঁকে হেফাজতেও নিতে পারে তদন্ত এজেন্সি।
তবে এর পরেও সিবিআই কর্তারা আগাম আশঙ্কা করছিলেন যে রাজীব শনিবার হাজিরা দেবেন না। সে জন্য দিল্লিতে সদর দফতরের কর্তাদের সঙ্গে শুক্রবার রাতেই পরামর্শ করে নিয়েছিলেন পূর্বাঞ্চলের সিবিআই কর্তা। তার পর এ দিন সকালে দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছন সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর সাই মনোহর আরমেনে। তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে চিটফান্ড মামলার তদন্তকারী অফিসার তথাগত বর্ধনের সঙ্গে এ দিন দীর্ঘ বৈঠক করেন। তার পর সেখান থেকে তাঁরা দু’জনে চলে আসেন নিজাম প্যালেসে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলের জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তবের অফিসে। বিকেল চারটের সময় সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা চলে যান তাঁদের আইনজীবী ওয়াই জে দস্তুরের বাসভবনে। অন্যদিকে রাজীব কুমারের বাড়ি, ৩৪ নম্বর পার্ক্সট্রিটের বাইরে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী।

যা দেখে অনেকে মনে করছেন, রাজীবের বিরুদ্ধে আঁটঘাট বেঁধেই পদক্ষেপ করতে চাইছে সিবিআই। রাজীব যে এ দিন সিবিআই দফতরে যেতে অপারগ তা কোনও ভাবে তদন্ত এজেন্সিকে জানানো হয়নি। ফলে নোটিস অমান্য করার দায়ে এ বার তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে কিনা সেটাই দেখার। তবে বিকেলে জানা যায়, রাজীব কুমার নাকি সিবিয়াই-কে একটি ই-মেল করেছেন। তাতে তিনি গোয়েন্দাদের থেকে এক মাস সময় চেয়েছেন।
ও দিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই রাজীব কুমারের মোবাইল ফোন বন্ধ। তাঁর দেহরক্ষীকেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার থেকে তিনি সরকারি ভাবে দশ দিনের জন্য ছুটি নিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন তিনি আদৌ কলকাতায় রয়েছেন, নাকি শহরের বাইরে গিয়েছেন তা জানা যায়নি।
সরকার ও শাসক দলের একাংশ মনে করছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন রাজীব কুমার। তবে এ ব্যাপারেও পাল্টা প্রশ্ন উঠছে। তা হল, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও সিবিআইয়ের জেরা এড়িয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে আদৌ কি কোনও সুরাহা পাবেন রাজীব?
সেই যাই হোক। আপাতত বাস্তব হল, জোর তৎপরতা শুরু করেছে সিবিআই। শনিবার রাত পর্যন্ত নাটক আরও গড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।