দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগে কয়েক দিন আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে হুগলির গরলগাছার পঞ্চায়েত প্রধানকে। এবার জেলারই সিঙ্গুরে উমফানে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠল।
উমফানে প্রকৃত ক্ষতিগ্ৰস্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের তালিকায় নাম নেই গ্ৰামবাসীদের উল্টে সেই জায়গায় নাম উঠেছে পাকা বাড়ি ও দোতলা বাড়ির মালিকদের। এই অভিযোগ তুলে সিঙ্গুর থানার নসিবপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রামচন্দ্রপুর এলাকায় প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তখন সেখানে পঞ্চায়েতের সদস্য প্রদ্যোৎ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সময় নসিবপুর পঞ্চায়েতের প্রধান দিপালী সাঁতরা গ্ৰামবাসীদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। প্রধান ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায়। বিক্ষোভ সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে সিঙ্গুর থানার পুলিশ।
পুলিশ আসার পরে তাঁদের কাছে গ্ৰামবাসীরা জানান, ঘূর্ণিঝড় উমফানে তাঁদের বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘরের চাল ভেঙে গেছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না অথচ যাঁদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তাঁরা ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দলবাজির অভিযোগও তাঁরা করেন। তাঁরা বলেন, “আগে আমরা সিপিএম করতাম। এখন বিজেপি করছি বলে পঞ্চায়েত থেকে আমাদের কোনও কিছু দিচ্ছে না।”
নসিবপুর পঞ্চায়েতের প্রধান দিপালী সাঁতরা এদিন বলেন, “ওঁদের অভিযোগ পুরো মিথ্যা। ক্ষতিপূরণের একটা তালিকা তৈরি হয়েছে তবে এখনও কেউ টাকা পাননি। তাছাড়া গ্ৰামবাসীরা যদি বাড়িতে এসে দরখাস্ত করতেন তা হলে হত। আমরা কি সবার বাড়ি বাড়ি যেতে পারি?” তবে পাকাবাড়ির মালিকদের নাম ক্ষতিপূরণের তালিকায় থাকা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে প্রশাসনের আশ্বাসে অবশ্য গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ থামিয়ে চলে যান।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে অভিযোগ হুগলির উঠেছে দাদপুর, জাঙ্গিপাড়া, চণ্ডীতলা প্রভৃতি এলাকা থেকেও। পাণ্ডুয়াতে বেলুন-ধামাসিন পঞ্চায়েতে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্য উমফানের টাকা নিয়ে অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। তাতে অন্তত আট জন আহত হয়েছেন।
জেলার চণ্ডীতলা ২ ব্লকের গরলগাছা পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি ক্ষতিপূরণ প্রাপকের তালিকায় নিজের স্ত্রীর নাম তুলে দিয়েছেন। এনিয়ে বিক্ষোভের পরে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি পদত্যাগ না করায় দল তাঁকে বহিষ্কার করে।
নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘরিয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলিয়াপাড়াতেও উমফানের ক্ষতিপূরণে পাকাবাড়ির মালিকদের নাম ওঠার অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে আগেই। তখনও এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে এব্যাপারে জবাবদিহি চান এলাকার বাসিন্দা। বচসা বেঁধে যায় তাঁদের মধ্যে। পাকাবাড়ির মালিকরাই জানিয়েছিলেন যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের কুড়ি হাজার টাকা করে ঢুকেছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেওয়ার বদলে স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে।
বুধবার নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠকেও উমফানে ক্ষতিপূরণের নামে লুঠ চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা।