দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় কাতর আবেদন দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকে। অল্প অল্প করে জমা হওয়া টাকায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের অপারেশন করাতে চলেছেন চুঁচুড়ার অঞ্জন ঘোষ ও সঙ্গীতা ঘোষ। শীঘ্রই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হতে চলেছে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী অদ্রিজার।
মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে চাই ত্রিশ লক্ষ টাকা – সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বাবা অঞ্জন ঘোষ কাতর আবেদন করেছিলেন সাহায্য চেয়ে। সংবাদ মাধ্যমেও খবর করেছিল তাকে নিয়ে। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন, অদ্রিজার স্কুল এবং ব্যক্তিগত ভাবে অনেকে যথাসাধ্য সাহায্য করছেন। চুঁচু্ড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার শুক্রবার আখনবাজারে অদ্রিজার বাড়িতে তাকে দেখতে যান। অদ্রিজার বাবা অঞ্জন ঘোষকে আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি মেয়ের অপারেশানের জন্য বাকি টাকার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। বিধায়ক বলেন, “আমার এলাকায় একশো ষাটটি ক্লাবকে টাকা দিয়েছে সরকার। সেই ক্লাবগুলোকে বলব অদ্রিজার পাশে দাঁড়াতে। হুগলি-চুঁচু্ড়া পুরসভাকেও সাহায্যের জন্য বলেছি। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে যে কোনও বিপদ থেকে বের হওয়া যায়।”
অদ্রিজার ক্ষেত্রেও যেন সেটাই দেখা যাচ্ছে। যখন শুরু হয়েছিল তখন খড়কুটোও ছিলো না আর এখন মনে হচ্ছে একটা নৌকায় রয়েছেন অঞ্জন বাবু। মেয়ের অপারেশনের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন চুঁচু্ড়ার দম্পতি। ১২ জুন সকালে বিমানে ব্যাঙ্গালোরে উড়ে যাবে অদ্রিজা। তার অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে।
পাঁচ বছর বয়সে অদ্রিজার শরীরে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের মার্চে তার শরীরে কালো র্যাশ দেখা যায়। তখন চুঁচু্ড়ায় স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে ভর্তি করা হয়। ঠিক কী থেকে এই উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তা বুঝতে না পারলেও চিকিৎসকরা জানান এটি জিনঘটিত কোনও সমস্যা হতে পারে।
এরপরে ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগে দেখানো হয় অদ্রিজাকে। পরীক্ষার পরে চিকিৎসকরা জানান বিরল এক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত অদ্রিজা। এই রোগে রক্তের অনুচক্রিকা অত্যধিক কমে যায়। অস্থিমজ্জায় হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। তাই কোনও কারণে রক্তপাত শুরু হলে বন্ধ হতে চায় না। রক্ত দিয়ে হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখা গেলেও তা বেশি দিন করা সম্ভব নয়। রক্তকোষ বদলে ফেলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে অদ্রিজা।
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-child-suffering-from-aplastic-anemia-treatment-costs-30-lakh-rupees-parent-appeals-in-social-media/