দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নিজামউদ্দিনে গিয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এমন ১১ জনকে চিহ্নিত করন করল জেলা প্রশাসন। রাতেই তাঁদের রাজারহাটে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মেদিনীপুরে শহর ৪ জন, ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোণা থেকে ২ জন করে এবং কেশপুরে ১ জনকে চিহ্নিত করে রাজারহাটে পাঠানো হচ্ছে। মেদিনীপুরের মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, “ওঁদের পাঠানোর জন্য গাড়ির বন্দোবস্ত করা হয়েছে। খড়্গপুরের তিন জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে।”
দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তবলিঘ-ই- জামাতে যোগ দিয়েছিলেন এখনও পর্যন্ত এমন ১২৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ মিলেছে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অসংখ্য মানুষ ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন রাজ্যে। বিদেশ থেকে আসা বহু নাগরিকও ঘুরে বেড়িয়েছেন একাধিক জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে সমস্ত রাজ্যকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল আগেই।
বুধবার কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করুক সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি। যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হোক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে থাকলে দ্রুত আলাদা রাখার ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়। তা না করা হলে করোনা সংক্রমণ দ্বিতীয় স্তর থেকে এক ধাক্কায় তৃতীয় স্তর অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণে চলে যেতে পারে।
দিল্লির মসজিদের অনুষ্ঠানে যোগদানকারী ছয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তেলঙ্গানায়। তাঁরা প্রত্যেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগে এই অনুষ্ঠা যোগ দেওয়ার পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তামিলনাড়ু ও জম্মু-কাশ্মীরে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে এই অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরঘিজস্তান থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। দু’হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। ওই মসজিদে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্য থেকে পরে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিলেন। তাঁদের পরীক্ষা হয় হায়দরাবাদে।
তবলিঘ-ই-জামাতে যোগ দেওয়া ৯৬০ জন বিদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিবাসন বিভাগের তরফে বলা হয়েছে, এঁরা প্রত্যেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন কিন্তু ভারতের আইন লঙ্ঘন করেছেন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।