
শেষ আপডেট: 13 December 2020 01:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়না থেকে মগড়া, কোচবিহার থেকে কাঁথি-- শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দিয়ে আমরা দাদার অনুগামী লেখা হোর্ডিং পড়েছে তা বেশ অনেক দিন হল।
চলতি সপ্তাহে দেখা গিয়েছে, নবান্নর অদূরে মন্দিরতলা থেকে উত্তর কলকাতা, ডোমজুড় থেকে সালকিয়া বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত হোর্ডিং পড়েছে। তার কোনওটায় লেখা আমরা রাজীবপন্থী আবার কোনওটায় আমরা দাদার কর্মীবৃন্দ।
পরিস্থিতি যখন এমন তখন শনিবার হাওড়ার রামরাজাতলায় দেখা গেল এক পোস্টারে শুভেন্দু-রাজীব। তাতে লেখা, "আমরা দাদার অনুগামী। এগিয়ে চলো, পাশে আছি।"
শনিবার হাওড়ার দাশনগরে বঙ্গজননী কর্মসূচির প্রচারে যান বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানেই পোস্টার বিতর্কে মুখ খোলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, টাকা থাকলে পোস্টার মারা যায়। দলের কিছু ভুঁইফোড় নেতা এইসব কাজ করছে। তাতে লাভ হবে না। নাম ও নেতা হিসেবে পরিচয় সবই তৃণমূলের থাকার জন্য। তৃণমূলের বাইরে গেলে ওঁদের কোনও পরিচয় নেই। এঁরা দল ছেড়ে চলে গেলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না।"
শুভেন্দু মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দিন পনেরো আগে। তারপর অভিষেক-পিকের সঙ্গে বৈঠক হলেও বরফ গলেনি। বরং দমদমের প্রবীণ সাংসদকে টেক্সট মেসেজ করে নন্দীগ্রামের তরুণ বিধায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়।
এর মধ্যেই রাজীব পর্ব শুরু হয়েছে। শুক্রবার বনমন্ত্রী বলেছেন, "শুধু ৮-৯ হাজার পুরোহিতকে নামমাত্র ভাতা দিলেই চলবে না। ব্রাহ্মণদের বেশ কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে। সনাতন ধর্মের মানুষ যাতে সুখে থাকেন তা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে কলকাতা অবরুদ্ধ করে দেব।"
সপ্তাহ দেড়েক আগে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজীব বলেছিলেন, "আমি ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকার কর্মী নই। দক্ষতা এবং যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।… যেখানে মানুষ মনের কথা বলতে পারে, সেখানেই থাকব।” তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখন ক্ষমতার জন্য রাজ রাজনীতি করে। আমি কখনও সেসব করিনি।"
এসব নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে তখন রামরাজাতলায় দেখা গেল এক ফ্লেক্সে রাজীব-শুভেন্দু।