দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার পাটুলিতে বিজেপির মিছিলের সামনে এক তরুণী ‘নো সিএএ, নো এনআরসি’ প্ল্যাকার্ড ধরে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। তা নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হুলুস্থুল বেঁধে গিয়েছিল। তারপর দিলীপ ঘোষ ওই তরুণীর বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমে। শুক্রবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে পাটুলি থানায় এফআইআর দায়ের করলেন ওই তরুণী।
গতকাল দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওই মেয়েটির চোদ্দ পুরুষের ভাগ্য ভাল যে শুধু প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু করেনি আমাদের কর্মীরা!” এখানেই থামেননি দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেন, “প্রতিবাদ জানানোর অনেক বাগ (পড়ুন শাহিন বাগের মতো) আছে। সেখানে গিয়ে তামাশা করুক। বিজেপির মিছিলের সামনে আসার কী দরকার? উনি কি খবর হতে চেয়েছিলেন না শহিদ হতে?”
তরুণীর বক্তব্য, “দিলীপ ঘোষ যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তাতে স্পষ্ট উনি আমায় যৌন হেনস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুনেরও। আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে। পুলিশের কাছে আমার নিরাপত্তাহীনতার কথাও জানিয়েছি।”
গতকাল পাটুলির মিছিল ঘিরে একপ্রস্থ হইহট্টগোল হয়। বিজেপির অভিনন্দন যাত্রাকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। তার মাঝেই দেখা যায় এক তরুণী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কার্যত আগুনে ঘি পড়ার মতো অবস্থা দাঁড়ায় পাটুলি মোড়ে। বিজেপি কর্মীরা ওই তরুণীর দিকে এগিয়ে এলে কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।
অনেকে যেমন এই তরুণীর সাহসের প্রশংসা করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, তেমন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিই কি ওই মিছিলের সামনে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা ছিল? নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছেন এমন অনেক মানুষ যেমন দিলীপের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন, তেমনই এই তরুণীর আচরণকেও শিশুসুলভ প্রচার পাওয়ার চেষ্টা বলেও তোপ দেগেছেন।