নারদ মামলায় চার নেতা-মন্ত্রীকে সমন, আদালতে চার্জশিট পেশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারদ কাণ্ডে (NaradaCase) নয়া মোড়। এই প্রথমবার রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হল। ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তাঁদের সমন পাঠানো হয়েছে।
ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিশেষ এজলাসে নারদ মামলার চার্জশিট পেশ
শেষ আপডেট: 1 September 2021 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারদ কাণ্ডে (NaradaCase) নয়া মোড়। এই প্রথমবার রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হল। ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তাঁদের সমন পাঠানো হয়েছে।
ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিশেষ এজলাসে নারদ মামলার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী যথা ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রের নাম উল্লেখ আছে চার্জশিটে, তাছাড়াও আছে প্রাক্তন আইপিএস এসএমএস মির্জার নামও। ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তাঁদের সমনও পাঠানো হয়েছে।
নারদ মামলায় অভিযুক্তরা যেহেতু রাজ্যে মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি, তাই সরাসরি তাঁদের নোটিস না পাঠিয়ে বিধানসভার স্পিকারের মারফৎ ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ইডির পাঠানো সমন যাবে বিধানসভার স্পিকারের কাছে। যাতে তিনি সেই নোটিস পাঠিয়ে ইডি দফতরে নেতা-মন্ত্রীদের হাজিরা দিতে বলেন। নোটিস পাঠানো হল কিনা তা ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারকে ফোন করা হলে তিনি জানান, এমন কিছু লেটার বিধানসভায় এসেছে বলে আমার জানা নেই।
বাংলায় ভোটের পর এক পক্ষ কাল কাটতে না কাটতেই নারদ মামলা নিয়ে গতি বাড়িয়েছিল সিবিআই। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। নারদ-কাণ্ডে ১৭ মে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের এই চার নেতা-মন্ত্রী। ওই দিন তাঁদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিবিআইয়ের দফতর নিজাম প্যালেসে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রায় ৫ ঘন্টা ধর্নায় বসেছিলেন তিনি।
তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের পরে ওই দিনই নিম্ন আদালতে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হলেও, রাতের বেলাতেই জামিনের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। জামিন স্থগিত হয়ে যায়। এর পরে চরম নাটকীয় ভাবে চার জনই চলে যান প্রেসিডিন্সি জেলে। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়।
তাঁদেরকে এসএসকেএমর উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হয়। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর-পেটে ব্যথা নিয়ে প্রেসিডেন্সি জেলের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফিরহাদও। শুনানির পর শুনানি চলে আদালতে। সিবিআইয়ের মূল ইস্যু ছিল দুটি, চার নেতার জামিন স্থগিত করা এবং মামলাটি রাজ্যের বাইরে অন্যত্র সরানো। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার বল গড়ানোর পরে মামলাটি ফেরে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চেই, সেখানেই ২৫ মে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পান চার নেতা। সেই শর্তেরই অন্যতম ছিল, নির্দিষ্ট সময়ান্তরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে চারজনকে। তবে নারদ মামলা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবিতে এখনও অনড় সিবিআই।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'