দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, অবিন্যস্ত দাড়ি, পরনে জিন্স আর খদ্দরের পাঞ্জাবি। দুপুর ১২টা থেকে এইটবি বাসস্ট্যান্ডের পাশের চায়ের দোকানে বসেছিলেন ভদ্রলোক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর মান্ধাতার আমলের একটা ফোন বের করে পরিচিত ছাত্র আর সাংবাদিকদের কল করে বলছিলেন, "কী দাঁড়াল তাহলে?"
’৯২ সালে পাশ করে বেরিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়ুয়া থাকার সময় ছাত্র আন্দোলন করেছেন চুটিয়ে। আজ সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছিলেন। বাম গড় বলে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। কিন্তু বাম গড় রইল অটুট। ভোট গণনার হিসেবেই এল না বাংলার শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় হল এবিভিপি। কিন্তু জয় পেল বাম মনোভাবাপন্ন ছাত্র সংগঠনই। সায়েন্সের দখলও থাকল ডব্লিউটিআইয়ের হাতেই।
সব থেকে বেশি নজর ছিল কলা বিভাগের দিকে। বাংলা তথা দেশের রাজনীতিতে যখন সিপিএমের রেখাচিত্র ক্রমশ নিম্নমুখী তখন কী করে তাদের ছাত্র সংগঠন সেটাই ছিল দেখার। তার মধ্যে যুক্ত হয়েছিল সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সে সব সামলে এসএফআই শুধু আফসু জিতল না, রেকর্ড গড়ে জিতল। কিন্তু সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টস--কোনও ফ্যাকাল্টিতেই ছাপ ফেলতে পারল না টিএমসিপি। এ ব্যাপারে শাসকদলের ছাত্র নেতাদের বক্তব্য, ওখানে সংগঠন গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু প্রথমবার প্রার্থী দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বেশ কিছু ভোট পেল এবিভিপি।
তাহলে সামগ্রিক ভাবে যাদবপুরের ফলাফল কী দাঁড়াল?
পর্যবেক্ষকদের মতে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন হলেও, ভোটে ঐক্য গড়ে ওঠেনি। ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা আলাদা লড়েছে বাম ও বাম মনোভাবাপন্ন ছাত্র সংগঠনগুলি। ফলে জেএনইউ মডেল ধাক্কা খেয়েছিল যাদবপুরে। কিন্তু সার্বিক ফলাফলে জিতল বামেরাই। প্রেসিডেন্সির পর রাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বেবিদ্যালয়ে তিন বছর পর ছাত্র সংসদ ভোট হল। তাতে আধিপত্য রইল বাম ও অতিবামদেরই।
এসএফআইয়ের বক্তব্য, ভোটে কী হয়েছে সে সব এখন অতীত। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন হবে ঐক্যবদ্ধ ভাবেই। আর এবিভিপি এখন থেকেই তৎপর এই ভিতকে শক্ত করে সংগঠন বাড়াতে। কিন্তু সিলেবাসে নেই টিএমসিপি।