দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: বুধবার নতুন করে গণ্ডগোলের পরিস্থিতি তৈরি না হলেও, এদিনও সরগরম রইল শান্তিনিকেতন। বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে সঙ্গীত ভবনের সামনে যেমন বিক্ষোভ দেখালেন আশ্রমিকরা তেমনই বোলপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘এক টাকার ডাক্তার’ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তিতে কালি লাগালো এক দল দুষ্কৃতী। তবে গতকাল, অনশনের বসার হুঁশিয়ারি দিলেও এদিন তা করেননি উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র ছিলেন তিনি। কবিগুরুই তাঁকে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। আশ্রমিকদের অভিযোগ, এ হেন প্রখ্যাত শান্তিদেব ঘোষের বাড়ির সামনে উপাচর্যের নির্দেশে ১০ ফুটের পাঁচিল তুলে দেওয়া হচ্ছে। এদিন তারই প্রতিবাদে গান গেয়ে সঙ্গীত ভবনের সামনে গান গেয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বেশ কয়েক জন আশ্রমিক।
তা ছাড়া বোলপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তিতে কালি লাগানো নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সুশোভনবাবু বিশ্বভারতীর কর্মসমিতির সদস্য। রাষ্ট্রপতির মনোনীত হিসেবেই তিনি এই পদে রয়েছেন। যে কায়দায় বিশ্বভারতীতে বিক্ষোভ হচ্ছে তার সমালোচনা করেছিলেন জনপ্রিয় এই চিকিৎসক। মনে করা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশের উগ্র আস্ফালনেই এমন অসভ্যতা ঘটানো হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বোলপুরের মানুষের মধ্যে। এদিন সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান সুশোভনবাবুর মূর্তিতে কালি লেপে দেওয়া রয়েছে। মনে করা হচ্ছে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তবে গতকাল উপাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি তাঁর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে অনশনে বসবেন। যদিও তা হয়নি।
তবে এদিনই জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বৈঠক ডেকেছেন। উপাচার্য না গেলেও বিশ্বভারতী কোনও প্রতিনিধি পাঠায় কিনা তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সন্ধে পর্যন্ত। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে জেলাশাসক সব পক্ষকে নিয়ে বসুক। যদিও এদিনের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক বলেই খবর। সেখানে ছাত্র বা নাগরিকদের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়নি।
তবে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ি এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা গগন সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, শাসকদলের নেতাদের সরাসরি উস্কানি ও মদতেই বিশ্বভারতীতে এই নজিরবনিহীন নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও শাসকদলের বক্তব্য , তাঁরা কেবল বোলপুরের মানুষের সেন্টিমেন্টকে মর্যাদা দিচ্ছেন। এর বেশি আর কিছুই নয়। তবে নরেশ বাউড়ি, গগন সরকারদের মিছিল করা, ‘ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’ জাতীয় মানসিকতার জন্যই শান্তিনিকেতনে অশান্তি বলে মত সমালোচকদের অনেকের।