কাপড় বাজে, সুতোও নিম্নমানের, স্কুল পোশাকের গুণগত মান বাড়াতে নয়া পদ্ধতি আনছে নবান্ন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের শিক্ষা দফতরের (Department of School Education) তরফে সরকার ও সরকার অনুমোদিত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পোশাক (School Uniform) দেওয়া হচ্ছে। এই পোশাকের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগও দীর্ঘদিনের। আগে অনেকবার জেলার
শেষ আপডেট: 5 October 2021 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের শিক্ষা দফতরের (Department of School Education) তরফে সরকার ও সরকার অনুমোদিত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পোশাক (School Uniform) দেওয়া হচ্ছে। এই পোশাকের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগও দীর্ঘদিনের। আগে অনেকবার জেলার বহু স্কুলে ইউনিফর্মের গুণগত মান নিয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছিলেন। এমন পোশাক ছাত্রছাত্রীরা পরতে পারবেন না বলে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছিল। এবার স্কুল পোশাকের মান ও বানানোর পদ্ধতিতে বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার (Nabanna)।
জেলার সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলগুলিকে এতদিন ছাত্রছাত্রীদের ইউনিফর্ম তৈরির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ দিত শিক্ষা দফতর। জেলাশাসক এই টাকা ভাগ করে দিত বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে। স্কুল পোশাক বানানোর দায়িত্ব ছিল তাদের ওপরেই। তাদের আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই ছিল এই পদক্ষেপ। কিন্তু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি সেই পোশাকের মান নিয়েই এতদিন বিস্তর অভিযোগ জমা পড়ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের পিছু পোশাকের জন্য ৬০০ টাকা বরাদ্দ করা হত। অভিযোগ, এই টাকায় যে গুণগত মানের স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কথা তা ছাত্রছাত্রীরা পায় না। কারণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি নাকি বড় বাজার, মেটিয়াবুরুজ থেকে ড্রেস মেটিরিয়াল কিনে তা দিয়ে পোশাক বানায়। অত্যন্ত নিম্নমানের সেই কাপড় দিয়ে যে পোশাক তৈরি হয় তা পরারও যোগ্য নয়। অভিভাবকরা এতদিন অভিযোগ করছিলেন, নির্দিষ্ট মাপ না-নিয়েই পোশাক বানিয়ে, পড়ুয়াদের বিলি করে দায় সারছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্কুল থেকে যে পোশাক দেওয়া হচ্ছে তার কাপড় ও সেলাইও খুব খারাপ। নিম্নমানের সুতোও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এইসব বন্ধ করতেই এবার নতুন পদ্ধতি নিয়েছে নবান্ন।
কী সেই পদ্ধতি? সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার থেকে কাপড়ের জন্য সুতো কিনবে তন্তুজা। সেই সুতো কেনা হবে ভিন রাজ্য থেকে। এই সুতোর গুণমান যাচাই করে সেটা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট হ্যান্ডলুম সোসাইটিকে দেবে তন্তুজা। তারা সুতো দিয়ে কাপড় বানিয়ে তবে স্বনির্ভর গোষ্টীকে দেবে। এরপর ছাত্রছাত্রীদের মাপ নিয়ে, স্কুলের ধরন অনুযায়ী পোশাক সেলাই করবে স্বনির্ভর গোষ্ঠী। সরাসরি তাদের ড্রেস মেটিরিয়াল কিনতে দেওয়া হবে না। কাপড় তৈরি করে তবেই তা বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ঠিকমতো পোশাক বানাচ্ছে কিনা তার তদারকি করবেন জেলাশাসক।
নবান্নের তরফে জানানো হচ্ছে, এই পদ্ধতিতে কাপড়ের গুণগত মানও বজায় থাকবে এবং পড়ুয়াদের স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। বছরে এর জন্য রাজ্য সরকারের ৪৫০-৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত করার জন্য ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দফতরের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতি জেলায় স্কুল পোশাক তৈরি করে যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি তাদের কাছে কী ধরনের পরিকাঠামো আছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'