
শেষ আপডেট: 9 June 2023 11:35
পঞ্চায়েত ভোটে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ানের দাবি জানাচ্ছে বিজেপি ও কংগ্রেস, তখন অন্য চিন্তা ভাবাচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও নবান্নকে। তা হল, রাজ্য সরকারের যা পুলিশ কর্মী রয়েছে তা দিয়ে সব বুথে ভোট করানো বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যাবে না। পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে মোট বুথ ৬১,৬৩৬ টি। প্রতিটি বুথে দু’জন করে পুলিশ কর্মী মোতায়েন করলেও ১ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী দরকার। কিন্তু রাজ্য পুলিশের বাহিনীতে অত সংখ্যক কর্মীই নেই।
তা হলে উপায়?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নবান্নর কাছে কমিশনের থেকে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপারে রিক্যুইজিশন দেওয়া হবে। যতদূর জানা যাচ্ছে, ভোট করানোর জন্য বিহার ও ওড়িশার কাছে বাড়তি বাহিনী চাইতে পারে স্বরাষ্ট্র দফতর তথা নবান্ন। সূত্রের মতে, অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী প্রয়োজন।
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল থেকে ডিএসপি পদ মর্যাদার মোট কর্মী রয়েছেন ৭৮ হাজার। হোম গার্ড রয়েছে ২০ হাজারের বেশি। আর কলকাতা পুলিশে মোট কর্মী রয়েছেন ৩৫ হাজার। গ্রিন পুলিশ রয়েছে ২ হাজার।
এ ছাড়া রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে ভোট করানো যাবে না।
নবান্নের কর্তাদের বক্তব্য, একদিনে পঞ্চায়েত ভোট হবে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের যত কর্মী রয়েছেন তাঁদের সবাইকে ভোটের কাজে লাগিয়ে দিলে থানা পাহাড়া দেবে কে? বড় কোনও আইন শৃঙ্খলার সমস্যা হলেই বা কী হবে। তা ছাড়া শুধু তো বুথে পুলিশ কর্মী মোতায়েন করলে চলবে না, ব্যালট বাক্স আনা, স্ট্রং রুমে রাখা ইত্যাদির জন্য বাড়তি বাহিনী প্রয়োজন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে।
ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ এনে ভোট করানোর অতীত দৃষ্টান্ত রয়েছে। লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের সময়ে অন্য রাজ্যের আইপিএস অফিসারদের বাংলায় দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে যে পরিমাণে পুলিশ বাহিনী আনার কথা ভাবা হচ্ছে, তা এই প্রথম। এ জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে অর্থও দিতে হবে কমিশনকে।
অনেকের মতে, রাজ্যে পুলিশ কর্মীর সংখ্যার এই হিসাব আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে। কারণ, বিরোধীরা বলতেই পারেন, অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ যখন আনতেই হবে তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীই চাওয়া হোক। এখন দেখার নবান্ন চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।