দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলা রেড জোন এবং কোনগুলিই বা অরেঞ্জ জোন, তা কেন্দ্র যেভাবে চিহ্নিত করেছে সে বিষয়ে আপত্তি জানাল নবান্ন।
বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা যখন সব রাজ্যের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করছিলেন, তখনই গোটা দেশে রেড,অরেঞ্জ ও গ্রিন জোন নিয়ে একটা প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। তার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সচিব প্রীতি সুদন সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে গোটা দেশের রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনের তালিকা পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দশটি জেলা হল রেড জোন। ওই দশ জেলা হল, কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও মালদহ। আর অরেঞ্জ জোন হল, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ।
কিন্তু এ হেন শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আপত্তি তুলেছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে বিবেককুমার বলেছেন, যে ভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে তা একেবারে ঠিক না। কেন্দ্র যে গাইডলাইন দিয়েছে সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ১০টি নয়, কেবল ৪টি জেলা হল রেড জোন। সেগুলি হল, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। কারণ এই জেলাগুলিতেই আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। যেমন কলকাতায় ৪৮৯ জন, হাওড়ায় ১৭৬ জনের শরীরে ইতিমধ্যে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। এর পর রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর। এই দুই জেলায় যথাক্রমে ১২২ জন এবং ৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজ্যের বক্তব্য, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পংয়ের মতো জেলাকে রেড জোনে ফেলা যায় না। কারণ, দার্জিলিংয়ে শেষ কারও শরীরে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে ২১ এপ্রিল। জলপাইগুড়িতে ৪ এপ্রিল এবং কালিম্পংয়ে ২ এপ্রিলের পর কোনও কোভিড আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তা হলে এই জেলাগুলিকে কীভাবে রেড জোন বলা যায়?
কেন্দ্র-রাজ্য মতের ফারাক হচ্ছে যে ৬টি জেলা নিয়ে সেগুলি হল—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং মালদহ। নবান্নের চিঠির জবাব এখনও সরকারি ভাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব দেননি বলেই খবর। কিন্তু নয়াদিল্লির নির্মাণ ভবনের একটি সূত্রের মতে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাকে কেন রেড জোন বলে চিহ্নিত করা হবে না? পশ্চিমবঙ্গে সব থেকে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে কলকাতায়। দক্ষিণ ২৪ পরগণা তার সঙ্গে একেবারে লাগোয়া জেলা। সেখানে ২৫ জন আক্রান্ত। গত ২৮ জুলাইও সেখান থেকে কোভিড পজিটিভ রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল পর্যন্ত হিসাবে গ্রিন জোন চিহ্নিত করা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য মতের কোনও তফাৎ নেই। দুই সরকারের পর্যবেক্ষণ এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একই ছিল। তা হল ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং আলিপুরদুয়ার জেলা গ্রিন জোন। কিন্তু এর মধ্যে আলিপুরদুয়ার ও বীরভূমে গতকাল রাত থেকে মোট সাত জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে বলে খবর। যদিও স্বাস্থ্য ভবন তা এখনও সরকারি ভাবে জানায়নি। তবে এর পর আলিপুরদুয়ার ও বীরভূমকে গ্রিন জোন বলা যাবে কিনা সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে তা স্পষ্ট করে দেবে নবান্ন।