
শেষ আপডেট: 28 November 2024 17:31
শিলিগুড়ি, নিবেদিতা দাস
কারও মাত্র ছ-মাস, কারও আবার একটু বেশি। তবে সবাই এতদিন শুধু দুধের স্বাদেই অভ্যস্থ ছিল। এবার তাদের ভাত খাওয়ানোর সময় এসেছে। কিন্তু ঘটা করে সেই অনুষ্ঠান করার সামর্থ নেই পরিবারের। সেই দায়িত্বই নিয়ে নিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বললেই মিড-ডে মিলে অব্যবস্থার পরের পর ছবিই সামনে আসে। এবার একেবারে অন্য ছবি দেখা গেল শিলিগুড়ির মায়া কলোনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে সাজো সাজো রব। রান্নার সুঘ্রাণ, ছোটদের কলকাকলিতে ভরে উঠেছিল গোটা চত্বর। অতিথির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। একই সঙ্গে মুখেভাত আর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান হল যে!
শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাবগ্রাম ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত একটিয়াশাল মহিপাল বিএসপি স্কুলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির শিশুদের মুখে ভাত দেওয়া হল। একইসঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের দেওয়া হল সাধ। অঙ্গনওয়াড়ির মাসি-পিসিরাই এগিয়ে এসে এই ব্যবস্থা করলেন। সুগন্ধী পায়েস তুলে দিলেন ছোট শিশুদের মুখে।
তার আগে সুন্দর করে সাজানো হয় কেন্দ্রটি। আসন পেতে সারিবদ্ধভাবে কোলে শিশুদের নিয়ে বসেন মায়েরা। এরপরই একে একে হয় অন্নপ্রাশন। কেউ পায়েস খেয়ে খুশি হল, কেউ আবার ভিন্ন স্বাদে খুবই খুবই বিরক্ত। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী গায়ত্রী চক্রবর্তী বললেন, এদিন ১৫ জন শিশুকে অন্নপ্রাশন দেওয়া হয়। সাধ দেওয়া হয় ১২ জন গর্ভবতী মাকে।
এদিন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিল অন্য দিনের থেকে একদম আলাদা। মেনুতে ছিল ডাল, পাঁচ রকমের ভাজা, বাঁধাকপির তরকারি, মুরগির মাংস, মাছ, পায়েস ও লাড্ডু। শিশুদের পায়েস খাইয়েই হল মুখেভাত।