দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরের শপথের দিন সকালে টুইট করে উদ্ধব ঠাকরের মা-বাবাকে স্মরণ করলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে।
প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরেই শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বংশ থেকে এই প্রথম কেউ কোনও প্রশাসনিক পদে বসতে চলেছে, তাও একেবারে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। বৃহস্পতি বার সকালেই টুইটে তাঁদের স্মরণ করেন সুপ্রিয়া।
https://twitter.com/supriya_sule/status/1199933682888241154
https://twitter.com/supriya_sule/status/1199935494001315840
মহারাষ্ট্রে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার জোট ভেঙে যাওয়ার পরে রাজ্যে কোনও দলই সরকার গড়তে পারেনি। পরে এনসিপির সভাপতি শরদ পাওয়ারের মধ্যসস্থতায় স্থির হয় মুখ্যমন্ত্রী হবেন উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু আচমকাই শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত বিদ্রোহ করে বসায় আশি ঘণ্টা ধরে টান টান নাটক চলে মহারাষ্ট্রে। তিনদিনের দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ সরকারের পতন হয়।
তার আগেই বিদ্রোহে ইতি টেনে, উপমুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কাকা শরদের কাছে ফিরে যান অজিত। তাঁর বোন সুপ্রিয়াও তাঁকে কাছে টেনে নেন। আজ শপথ না নিলেও অজিতই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন।
মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে বাইরে রেখে জোট চূড়ান্ত হওয়ার পরে সেই জোটের নাম দেওয়া হয় মহারাষ্ট্র বিকাশ আগদি। সই জোটের নেতা হিসাবে উদ্ধবকেই মনোনীত করেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সভাপতি শরদ পাওয়ার। শরদ পাওয়ারই ঘোষণা করেন যে মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরেই।
উদ্ধব ঠাকরের আগে ঠাকরে পরিবার থেকে কেউ প্রশাসনিক পদে বসেননি। ২০১৯ সালের আগে কেউ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। উদ্ধবের ছেলে আদিত্য এবার ওরলি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছেন এবং জিতেছেন।
এর আগে শিবসেনা থেকে দু’জন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন – মনোহর জোশী ও নারায়ণ রানে। তখন মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা সরকার ছিল। এবার বিজেপিকে বাইরে রেখে সরকারের প্রধান হচ্ছে শিবসেনা।
মধ্য মুম্বইয়ের দাদারে শিবাজি পার্কে শপথ উদ্ধবের। এখানেই চিরকাল দশেরার দিন বক্তৃতা করে এসেছেন তাঁর বাঁবা তথা শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে। সেই ধারা বজায় রেখে এসেছেন উদ্ধব নিজেও। শিবাজি পার্কের এক কোণেই অন্ত্যেষ্টি হয়েছে বালাসাহেবের। তাই এই জায়গার প্রতি শিবসৈনিকদের আলাদা আবেগ রয়েছে তো বটেই, অনেকে আবার এই জায়গাটিকে পবিত্র বলেও মনে করেন। অনেকে আবার এই জায়গাটিকে ‘শিবতীর্থ’ বলে ডাকেন। এইসব কথা মাথায় রেখেই উদ্ধবের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।