
শেষ আপডেট: 16 May 2023 08:52
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি এ মাসের শেষে দিল্লি যেতে পারেন। নীতি আয়োগের বৈঠক রয়েছে ২৭ মে। যে বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা হল ‘মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগ (MSME)’। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে যোগ দিতে ২৬ মে দিল্লি যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর ২৮ তারিখ তাঁর দিল্লি থেকে ফেরার কথা। তবে তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার সময়ে ২৮ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান পাটনায় হল্ট নিতে পারে (Mamata Banerjees flight may take a halt at patna)। সেই নির্ঘণ্ট তৈরির কাজ এখন চলছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে কথা বলছেন।
পাটনা কেন?
কিছুদিন আগে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব কলকাতায় এসেছিলেন। নবান্নে এসে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে অবিজেপি আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে সেতু রচনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেন, সে ব্যাপারে মমতা-নীতীশ কথা হয়েছে। সূত্রের খবর, তখনই ঠিক হয়েছিল যে, মে মাসের শেষে পাটনায় একটি বৈঠক ডাকবেন নীতীশ কুমার। ওই বৈঠকে অবিজেপি দলগুলির নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। যেমন সপা নেতা অখিলেশ যাদব, টিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও, এম কে স্ট্যালিন, শরদ পাওয়ার, হেমন্ত সোরেন প্রমুখ।
ওই বৈঠক ২৮ বা ২৯ মে হতে পারে। তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এমনিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতা, নীতীশ দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেদিন বিশেষ আলোচনার সুযোগ নেই। তা ছাড়া বৃহত্তর জোট বার্তাই দিতেই পাটনায় শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সম্ভাব্য জোট ফর্মুলা বোঝাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের (Indian National Congress) অন্তত ২০০ আসনে মুখোমুখি লড়াই রয়েছে। ওরা সেখানে লড়ুক। বাকি আঞ্চলিক দলগুলি যার যেখানে শক্তি রয়েছে সে সেখানে বিজেপিকে আটকানোর চেষ্টা করুক।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ ধরনের বৈঠক অনেকটাই প্রতীকী। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, আঞ্চলিক দলগুলির কোনও ভারত-দর্শন নেই। তারা স্থির সরকার দিতে পারবেন না। এবং তারা জাতীয় মঞ্চে অপ্রাসঙ্গিক। তার বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নীতীশ কুমাররা দেখানোর চেষ্টা করছেন, সমষ্টিগত ভাবে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করা সম্ভব। কর্নাটক যে পথ দেখিয়েছে তা তাওয়া গরম থাকতে থাকতেই প্রসারিত করতে হবে। তা ছাড়া আঞ্চলিক দল মিলে দিল্লিতে যে স্থায়ী সরকার দিতে পারে তার নজির মমতা-নীতীশ দুজনেই দেখিয়েছেন। বাজপেয়ী সরকারে এঁরা দু'জনেই শরিক ছিলেন। পরবর্তী কালে কংগ্রেস তথা ইউপিএ সরকারে শরিক ছিলেন মমতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের কথায়, নীতীশ-মমতার এই পারস্পরিক বোঝাপড়া তাঁদের নিজ নিজ ভোট ব্যাঙ্কের প্রতি বার্তা বটে। এটা বোঝানো যে তাঁরা কেন্দ্রে সরকার গঠনের দৌড়েও রয়েছেন।
কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট সমীকরণ ব্যাখ্যা করলেন মমতা, শর্ত সাপেক্ষে সমর্থনে প্রস্তুত তৃণমূল