রফিকুল জামাদার: একটা সময় ছিল যখন বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় পাড়ার ব্যাটারির দোকানে সকাল থেকে চার্জ দেওয়ার লাইন পড়ত। বারো ভোল্টের ব্যাটারি, তা দিয়ে চলবে পোর্টেবল চোদ্দ ইঞ্চির টিভি। সাধ্যবিত্ত হলে, বাড়িতে নতুন টিভির সঙ্গে চলে আসত ইনভার্টার। রাত দুপুরের ম্যাচের সময় হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলেই পাড়ায় সেই বাড়িতেই খেলা দেখার আসর বসত।
ইদানীং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাট চুকে গিয়েছে। বাংলা বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বললে কম বলা হবে, বিদ্যুৎ রয়েছে উদ্বৃত্ত। অথচ গত কয়েক দিনে বারাসত, মধ্যগ্রাম-সহ উত্তর চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাতে খেলা দেখার সময় বার বার লোডশেডিং হয়েছে। কারেন্ট গিয়েছে দক্ষিণের শহরতলির পর্ষদ এলাকায়। তা ছাড়া হাওড়া, হুগলি, নদীয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে অভিযোগ জমা পড়েছে। এবং সেই অভিযোগ বেশি করে আছড়ে পড়ছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কাছে। বলা হচ্ছে, পর্ষদের কাছে অভিযোগ করে লাভ মিলছে না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। নবান্ন সূত্রের খবর, লোডশেডিংয়ের খবর পেয়েই ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দ্রুত এ সব অভিযোগের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।
যেমন বলা অমনি কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরেই বিদ্যুৎ পর্ষদের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শোভনদেববাবু। সূত্রের খবর, অফিসাররা তাঁকে জানিয়েছেন, এর আগে কালবৈশাখী ঝড়ে কোথাও কোথাও সমস্যা হয়েছে ঠিকই। সে জন্যই কিছু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়েছে। তা ছাড়া বিশ্বকাপ খেলা চলার সময় পাড়ায় পাড়ায় হুকিংয়ের ঘটনা বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ। তবে সাংবাদিকদের ডেকে বিকেলে শোভনদেববাবু জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন আর যাতে কারেন্ট না যায় সে জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও লোডশেডিং হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্ষদের কর্মীরা প্রয়োজনে রাত জেগে কাজ করবেন। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষ যাতে সহিষ্ণুতার সঙ্গে পর্ষদ কর্মীদের সঙ্গে ব্যবহার করেন সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।