বরাবরই স্কুলে ভাল রেজাল্ট করত ছেলেটা। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেও তার প্রস্তুতি ভালই ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার (Bacterial Infection) কারণে মাধ্যমিক (Madhyamik) দিতে পারবে না পোলবার মেধাবী ছাত্র সৌম্যদীপ সামন্ত। বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে এখন তার চিকিৎসা চলছে।
পোলবার সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধূমা গ্রামের সৌম্যদীপের এবার যাদবপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার কিছুদিন আগেই তার শরীর হঠাৎ করে খারাপ হতে শুরু করে। সৌম্যদীপের মা জানিয়ছেন, হাত-পা কাঁপছিল ছেলেটার। ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিল না। শরীরে খুব অস্বস্তি হচ্ছিল বলে বার বার বলছিল সৌম্যদীপ। এরপরেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বাবা-মা।
কী হয়েছে মাধ্যমিক (Madhyamik) পরীক্ষার্থী সৌম্যদীপের?
সৌম্যদীপের পরিবার বলছে, অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্টকে দেখানোর পরে তিনি বলেন একধরনের ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধেছে সৌম্যদীপের শরীরে। এমন ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা শরীরের কোষগুলোকে নষ্ট করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রক্তের কোষগুলিকে সংক্রমিত করেছে এই ব্যাকটেরিয়া। রোগ এমন জটিল পর্যায় পৌঁছেছে যে তাকে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ এন্ড নিউরো সায়েন্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে এখন ডাক্তাররা সৌম্যদীপের প্লাজমা থেরাপি শুরু করেছেন।
জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি
ভ্যাকসিনের সেকেন্ড ডোজ নেয় সৌম্যদীপ। তারপর থেকেই নাকি শরীর খারাপ হতে শুরু করে তার। ভ্য়াকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতে এমন হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি ডাক্তাররা। কাজেই ভ্যাকসিনের অ্য়াডভার্স সাইড এফেক্ট হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কী থেকে হল, আগেই কোনও রোগ বাসা বেঁধেছিল কিনা বা অ্যালার্জির ধাত ছিল কিনা সেসব পরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
Medica Robotic Surgery: রোবোটিক সার্জারিতে বিপ্লব ঘটাল মেডিকা, কিডনি ক্যানসারের নিখুঁত অস্ত্রোপচার কম সময়ে
যাদবপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরজিৎ ঘোষ বলেছেন, "একজন শিক্ষক হিসেবে বলব কোনও ছাত্রের মাধ্যমিক দিতে না পারা খুবই কষ্টের। অতন্ত্য মেধাবী ছাত্র সৌমদীপ। ওর অসুস্থতার খবর পেয়ে আমরা শিক্ষক শিক্ষিকারা খুবই অবাক হয়েছি। ওর পাশে আছি। অ্যাডমিট কার্ড নিতে এসেছিল, তখন অনেক কথা হল। যাদবপুর স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছে সুগন্ধা হাইস্কুলে। সেখান সেন্টার ইনচার্জকে সৌমদীপের অসুস্থতার খবর দিয়েছি। ভেবেছিলাম হয়ত বেঙ্গালুরু থেকে পরীক্ষার আগে ফিরে আসবে। ভাল ছাত্র হিসেবে নয়, ভাল মানুষ হিসেবে ওর দ্রুত আরোগ্য চাইছি।"