
শেষ আপডেট: 23 June 2022 16:29
কেকে-র (KK Death) শেষ অনুষ্ঠানের টুকরো-টাকরা ভিডিও এখনও ভেসে বেড়াচ্ছে নেট মাধ্যমে। কালো প্রিন্টেড টি-শার্ট। ঘর্মাক্ত কলেবরে হাসিমুখে একের পর এক গান গাওয়ার নজরুল মঞ্চের সেই সন্ধের দৃশ্য। হাতে ধরা মাইক্রোফোন। শিল্পীর শেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকেই একটি মুহূর্তকে বেছে নিয়ে কুমোরটুলিতে তৈরি হচ্ছে ফাইবার গ্লাসের পাঁচফুট আট ইঞ্চির কেকে-র মূর্তি।

এবছর রথের আগে ব্যস্ত কুমোরটুলি (Kumortuli)। প্রায় প্রতিটি গোলা ও স্টুডিওতেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকর্মা ও সপরিবার দুর্গা তৈরির কাজ। তবে বাড়তি আকর্ষণ কেকে। যাঁরাই কুমোরটুলিতে আসছেন, অকালপ্রয়াত সংগীতশিল্পীর হাসিভরা মূর্তিটি চাক্ষুস করছেন। তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু নিয়ে আক্ষেপও করছেন অনেকে। মূর্তিটি তৈরি করছেন শিল্পী মন্টি পাল। মনীষীদের মূর্তি তৈরিতে শহরে বেশ খ্যাতি রয়েছে তাঁর। তিনি জানালেন ফাইবার গ্লাসের ওই মূর্তি তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকা। বাড়তি যত্ন নিয়ে বানাচ্ছেন।

'কেকে-র মূর্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে শিল্পী হিসেবে আলাদা অনুভূতি হচ্ছে', বললেন মন্টি পাল। তাঁর কথায়, 'বহু মনীষীর মূর্তি তৈরি করি। কিন্তু কেকে-র মূর্তি তৈরির সময় তাঁর অগণিত ফ্যানের কথা মনে পড়ছে। কেকে-র বহু গান যা আগে শোনা হয়নি, সেগুলো শুনছি। দারুণ শিল্পী ছিলেন। শিল্পীর অনেকগুলি ছবি থেকে শেষ অনুষ্ঠানের মুখাবয়ব ফুটিয়ে তুলতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমি নিজে হাতে করছি। কাজটা পেয়ে নিজেরও ভাল লাগছে।'

এ বার পুজোয় কবিরাজ বাগান শারদোৎসবের পুজোয় থিম হচ্ছেন কেকে। যেহেতু নজরুল মঞ্চেই কেকে তাঁর শেষ অনুষ্ঠানটি করেছেন, তাই কবিরাজ বাগানের পুজো মণ্ডপটি তৈরি হবে ওই মঞ্চের আদলে। সেখানেই এলইডি স্ক্রিনে চালানো হবে নজরুল মঞ্চে কেকে-র শেষ অনুষ্ঠানটি। থিম অনুযায়ী মন্ডপে চলবে তাঁর নিজের হাতে লেখা শেষ প্লে-লিস্টের গান।

পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমল চক্রবর্তী বললেন, 'স্যার গুরুদাস মহাবিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পরেই প্রয়াত হন কেকে। কলেজটি আমার ওয়ার্ডের অন্তর্গত। তাই প্রয়াত গায়কের স্মরণেই সেজে উঠবে কবিরাজ বাগান সর্বজনীনের ৫৭তম বর্ষের শারদোৎসব।'
কিন্তু আনন্দের পুজোয় কেকে-র মৃত্যুর মতো এরকম বিষাদের ঘটনাকে বেছে নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? উত্তরে অমল বললেন, 'এটা একটা শ্রদ্ধার্ঘ। কলকাতা শিল্পীদের কদর করতে জানে। কলকাতায় গাইতে এসে উনি মারা গেলেন, আমরা ওঁকে ভুলতে পারব না। ওঁর পরিবারের কাছেও বার্তা পৌঁছবে, যে কলকাতা কেকে-কে ভোলেনি।'