
শেষ আপডেট: 5 January 2023 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর থানায় গণধর্ষণের এফআইআর দায়ের করা নিয়ে পুলিশের চরম উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার, আইপিএস দীনেশ কুমারকে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata Highcourt) বিচারপতি রাজশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছেন, জেলার ওই পুলিশ সুপারকে সতর্ক করতে হবে। শুধু তা করলেই হবে না। আদালত বলেছে, তাঁকে যে সতর্ক করা হল তা তাঁর সার্ভিস বুকে উল্লেখ করতে হবে। তবে আনন্দপুর ধর্ষণের ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এদিন সারা রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকেও বার্তা দিতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
আজ, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে ধর্ষণ বা ওই ধরনের যে কোনও গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এলে কোনও রকম দেরি না করে দ্রুত এফআইআর করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
শুধু এই নির্দেশই নয়, আদালত জানিয়ে দিয়েছে, যদি অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরুর ক্ষেত্রে কোনও রকম গাফিলতি হয়, সেই ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ জেলা পুলিশ সুপার বা বিভাগীয় কমিশনারদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে রাজ্যকে।
একইসঙ্গে আদালতের এই নির্দেশের কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বা নোটিস জারি করে সব এসপি-দের জানানোর জন্য অর্ডার দেন ডিজিকে। এ-ও বলেন, সেই নির্দেশ যেন তাঁরা নিজেরা পড়ে, তাতে স্বাক্ষর করে, ফের জেলা পুলিশ সুপারের ডিজির কাছে পাঠাবেন।
বিচারপতি রাজশেখর মান্থার এই নজিরবিহীন এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সব মহল। ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ রাজ্য মেনে নিয়েছে। আনন্দপুরের ওই গণধর্ষণে অভিযোগ না নেওয়ার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানার ওসি এবং বিভাগীয় ডিএসপির বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন রাজ্যের আইনজীবী।
কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানা এলাকায় কয়েক মাস আগে জমি বিবাদকে ঘিরে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ ছিল, ওই মহিলার অভিযোগ নিতে দেরি করেছিল পুলিশ। এর আগে ওই ঘটনার পর আনন্দপুর থানার ওসিকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার রেয়াত করা হল না পুলিশ সুপারকেও।
চাকরি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ম্যানেজার, ঘরে ঢুকে বুকে গুলি করে দিলেন কর্মী