দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিছিয়ে যেতে হবে অন্ততপক্ষে পাঁচশো বছর। লোকমুখে ফেরে, মহাদেবের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন কাশীপুরের তৎকালীন মহারাজ। তার পরেই আসানসোল শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দামোদর নদীর তীরে রজনীকান্ত ব্রহ্মচারীকে কয়েক বিঘা জমি দান করেছিলেন তিনি, মহাদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে।
চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ মানিকেশ্বর নামে মহাদেবের পুজো করার স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই রজনীকান্ত ব্রহ্মচারীকে তিনি দায়িত্ব দেন মানিকেশ্বর নামে মহাদেবের মন্দির তৈরি করে পূজো করার। কাশীপুরের মহারাজের নির্দেশ পাওয়ার পরে সেবাইত পুজো করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানে আরও কিছু মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।
বাঙালিদের বারো মাসে তেরো পার্বণ। তবে এখানে হয় ছাব্বিশ পার্বণ। রজনীকান্ত ব্রহ্মচারী মারা গেলে হরিপদ চক্রবর্তী পূজোর দায়িত্ব পান। পরবর্তী কালে হারাধন চক্রবর্তী সেবায়েতের দায়িত্ব পান। তাঁর প্রয়াণের পরে বর্তমানে সেবাইতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী। এখন ভিক্ষাবৃত্তি করে শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের পুজোর জোগাড় করেন তিনি।
এ মন্দিরে রথের পুজোও আগে হত জাঁকজমক করে। কাশি থেকে ৪০ হাজার টাকায় পেতলের রথ কিনে এনেছিলেন পূর্ণিমা দেবীর পুর্ববর্তী এক সেবায়েত। সে রথেই হত রথযাত্রা। তবে সেই রথ চুরি হয়ে যাওয়ার পর তৈরি হয় লোহার রথ। এখন রথের দিনে সেই রথের রশিই টানেন ভক্তরা।
প্রচলিত বিশ্বাস, ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন মানিকেশ্বর। স্থানীয় লোকজন তো বটেই, গোটা রাজ্য, এমনকী বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকেও ভক্তরা ভিড় জমান মন্দিরে। বর্তমান সেবাইত পূর্ণিমা চক্রবর্তী জানান, মন্দিরে সারা বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পূজো হয়। আশেপাশের গ্রামে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে পুজোর খরচ জোগাড় করেন পূর্ণিমাদেবী। মানিকেশ্বর মন্দিরে বজায় থাকে ১২ মাসে ২৬ পার্বণ।