শেষ আপডেট: 27 October 2020 18:29
গতকাল সোমবার ছিল বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গা বরণ করে সিঁদুরখেলা সেরে রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফিরছিল বছর ১৮এর এই মহিলা। এই সময় ওই গৃহবধূকে একা রাস্তায় পেয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, ওই গৃহবধূর অশ্লীল ছবি নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে ওই তরুণীকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়। দেওয়া হয় মুখে এসিড ছোঁড়ার হুমকিও। এমনকি ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে বধূকে ধর্ষণের চেষ্টার পাশাপাশি তাঁর বয়স্কা শাশুড়ি ও জ্যেঠশাশুড়িকেও মারধর করা হয় বলে গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল ওই বধূরই প্রতিবেশী মামাশ্বশুর গনেশ হালদার ও তার ছেলে ধ্রুব হালদার আর জামাই তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।
শারীরিক আক্রমণে গুরুতর আহত ওই বধূ সহ পরিবারের তিনজন এই মুহূর্তে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওই আক্রান্ত গৃহবধূ বলেন, "গত দুই সপ্তাহ আগে বেশ কয়েকবার আমাকে ওই প্রতিবেশী মামাশ্বশুর সহ তার ছেলেরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও কটুক্তি করে। এমনকি এও বলে যে, আমার কিছু অশ্লীল ছবি ওদের কাছে আছে, সেগুলো তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেবে। এই ঘটনা শুনে আমি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। গতকাল রাতে মামাশ্বশুরের বাড়ির লোকজন আমার উপর আচমকা চড়াও হয়। শারীরিকভাবে নিগ্রহের পাশাপাশি খুলে নেওয়া হয় গায়ের গয়না। ধর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে আমাকে বাড়ির পাশের বাগানের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে দুষ্কৃতিরা। বাধা দিতে এসে গুরুতর আহত হন আমার শাশুড়িমা ও জ্যেঠশাশুড়ি"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসনাবাদ তোকিপুর অঞ্চলে। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলার স্বামী শুভাশিস দাশ। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বধূর মামাশ্বশুর সহ তার পরিবারের লোকজন। চক্রান্ত করে তাদের ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। সবদিক দেখেশুনে তদন্ত শুরু করেছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ ।