
শেষ আপডেট: 9 March 2023 02:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের শান্তিনিকেতন, কিংবা নদিয়ার (Nadia) নবদ্বীপ-মায়াপুর, দোল উৎসবের (Holi Utsav) প্রসঙ্গ উঠলে রাঢ় বঙ্গের এই তিন জায়গার নামই সবার আগে মাথায় আসে। তবে এগুলো ছাড়াও গ্রামবাংলার আনাচে কানাচে এমন বহু জায়গা আছে, যেখানে জাঁকজমক সহকারে পালিত হয় দোলযাত্রা। তেমনই একটি জায়গার নাম কল্যাণী (Kalyani) ঘোষপাড়ার সতীমায়ের দোলমেলা (Sati Maayer Mela)। স্থানীয় জনমানসে কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে আউলিয়া সম্প্রদায়ের সতী মা অর্থাৎ সরস্বতী দেবী এই মেলা শুরু করেন।
অন্যান্যবারের মতো এবছরও সেই মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে। শুধু অন্যান্য জেলা বা ভিনরাজ্য থেকে নয়, বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত মেলায় আসেন। দোলের আগের দিন থেকে সেখানে শুরু হয় ভক্ত সমাগম। আউল, বাউল, ফকির, সন্ন্যাসীরা মেলার মাঠের চারপাশে আখড়া তৈরি করে থাকেন। সারারাত ধরে চলে গান-বাজনা। কৃষ্ণনগরের বারোদোলের মেলা, শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার মতো এই মেলারও নামডাক রয়েছে রাজ্যজুড়ে।

টানা দশদিন ধরে মেলা চলে সেখানে। মেলার মাঠের কাছেই রয়েছে সতীমায়ের মন্দির। সেই মন্দির চত্বরে থাকা একটি ডালিম গাছের নীচেই চলে পুজোপাঠ। এছাড়াও এখানে রয়েছে দুধসাগর নামের একটি পুকুর। দোলযাত্রার সময় ভক্তরা সেই পুকুরে স্নান করে দণ্ডি কেটে মন্দিরে পৌঁছন। এরপর ডালিম গাছে সুতো দিয়ে মাটির ঘোড়া বাঁধেন মনস্কামনা পূরণের আশায়। এই বিষয়ে কল্যাণী পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেশ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, মেলার দর্শনার্থীদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।