নকিবুদ্দিন গাজি: মেঘ কালো আকাশ। রিমঝিম বৃষ্টি। তখনই মন উচাটন। বর্ষা তো এসে গেল। পাতে পড়বে তো সাধের ইলিশ? এখনতো মনে হলেই বসে যাও নেট খুলে। দমাদম অর্ডার দিয়ে ফ্যালো যেমন ইচ্ছে পোশাক, জুতো , গয়নার। ইলিশ তবে পিছিয়ে থাকবে কেন? বাজার গিয়ে নেড়েচেড়ে ইলিশ কিনে ভাপা খাওয়া। সে সময় কি আর আছে? এ সব ভেবেই না এ বার ইলিশ অ্য়াপস আনতে চলেছে মৎস্য দফতর। এখন থেকে ঘরে বসেই অর্ডার দিতে পারবেন পছন্দসই ওজন আর দামের ইলিশের।
ইলিশের মরসুম শুরুর আগেই এই অ্যাপস আনার ভাবনা রাজ্য় সরকারের মৎস্য় দফতর ও পশ্চিমবঙ্গ ফিশারম্য়ান অ্য়াসোসিয়েশনের। এতে এক দিকে যেমন ভোজনরসিক বাঙালির ইলিশ ভাবনা উৎসাহ পাবে, তেমনই লাভের মুখ দেখবেন কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার ও দিঘার মৎস্যজীবীরাও।
সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা জানান, ইলিশের মরসুমে প্রচুর ইলিশ ওঠে। সংরক্ষণের অভাবে হয় নষ্ট হয়ে যায়, না হলে দালালদের হাতে পড়ে কমদামে বিক্রি করে দিতে হয় মৎস্য়জীবীদের। তাঁদের এই ক্ষতি রুখতেই রাজ্যসরকারের সহযোগিতায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে হিমঘর ও অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মৎস্য়জীবী ও ক্রেতাদের মধ্যে কোনও দালাল না থাকলে মৎস্যজীবীরা যেমন লাভ পাবে সেই রকম ক্রেতারাও কম দামে মাছ পাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, 'অ্য়াপস এলে আর দালালদের হাতে পড়তে হবে না। সরাসরি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ হবে। ভালো দাম পাওয়া যাবে। উপকৃত হবেন মৎস্যজীবীরা।"
বাংলাদেশের মৎস্য সমবায় সমিতির এক প্রতিনিধি দল সম্প্রতি এ রাজ্যে এসে এই অ্য়াপসের ব্য়াপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা ভাবনা চিন্তা করলে পদ্মার ইলিশও হাতের মুঠোয় এল বলে।