
শেষ আপডেট: 24 May 2022 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি পাহাড় সফরে গিয়ে সবকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপর দার্জিলিং থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এবার গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা জিটিএ-এর ভোট করানো হবে। যদিও বিমল গুরুংদের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এখনই জিটিএ নির্বাচনের (GTA Election) বিরোধিতা করেছে। এ নিয়ে গুরুং চিঠিও লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে নবান্ন তাতে বিশেষ আমল দেয়নি। এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়ে গেল জিটিএ ভোটের দিনক্ষণ।
আগামী ২৬ জুন হতে চলেছে পাহাড়ে জিটিএ নির্বাচন (GTA Election)। সর্বদলীয় বৈঠকের পর এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে সর্বদলীয় বৈঠক করে কমিশন। তারপরই কমিশনের জলপাইগুড়ির ডিভিশনাল কমিশনার অজিতরঞ্জন বর্ধন জিটিএ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন।
কমিশন জানিয়েছে ভোটগ্রহণ হবে ২৬ জুন। গণনা হবে ২৯ জুন। ফলে এদিন থেকেই জিটিএ এলাকায় নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হয়ে গেল। সূত্রের খবর, শীঘ্রই নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আগামীকাল স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুংদের দাবিদাওয়ায় নবান্নের আমল না দেওয়ার বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। তার কারণ গুরুং একটা সময়ে পাহাড়ে যে প্রতাপ নিয়ে রাজনীতি করতেন এখন তা ক্ষইতে ক্ষইতে একেবারে কিনারায় এসে ঠেকেছে। তার গণভিত্তিও আর আগের মতো নেই। তা ছাড়া অনেকে বলেন, গুরুং যতই ভাষণ দিন না কেন, কোনও দিনও তিনি সুভাষ ঘিসিংয়ের মর্যাদায় নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। তাছাড়া সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে পাহাড়া মাথা তুলছে সম্পূর্ণ নতুন একটি দল হামরো পার্টি। অজয় এডওয়ার্ডকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে একটা ইউফোরিয়া রয়েছে বলেও মত অনেকের।
এদিনের বৈঠক বয়কট করে বিজেপি ও বিমল গুরুংয়ের দল জিজেএম। গুরুং এখন পাহাড়ে নেই। তিনি রয়েছেন হিমাচল প্রদেশের সিমলায়। তবে জিটিএ নির্বাচনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রিলে অনশন শুরু করেছে মোর্চা। সিংমারিতে তাঁদের সদর কার্যালয়ে এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এদিনই আবার দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট বিমল গুরুংকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে একদিকে জিটিএ নির্বাচনের প্রস্তুতি যেমন শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে তেমনই গুরুংরা কী করেন বা বিজেপি কোন পথে এগোয় সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
পরেশের মেয়ের চাকরিটা গেলই, হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করল স্কুল