দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: গত বছর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো সারা পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। নকল সোনা দিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই ঘটনায় সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম তপন কুমার ধাড়া ও সন্দীপ সাঁতরা। বর্ধমান শহরের মিঠাপুকুরে তপনের বাড়ি। অপরজনের বাড়ি হুগলির ধনিয়াখালি থানার সাহাপাড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়। ঋণ নেওয়ার সময় তারা সোনা পরীক্ষা করে শংসাপত্র দিয়েছিল। তাদের দু’জনেরই সোনা পরীক্ষা করার কোনও বৈধ লাইসেন্স নেই বলে তদন্তে জেনেছে পুলিশ। ব্যাংকে বন্ধক রাখা সোনা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
ধৃত দুজনকে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত লক্ষ্মণ অধিকারীকেও এদিন আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তাকে হেফাজতে নিয়ে লোনের টাকা শোধ করানোর চেষ্টা করেছে পুলিশ। যদিও লোনের সেই টাকা লক্ষণ এখন শোধ করেনি। তবে এভাবে হেফাজতে থাকা ধৃতকে দিয়ে লোনের টাকা শোধ করানোর পুলিশের চেষ্টা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন তুলেছে?
আইনজীবীদের বক্তব্য, লোন শোধ করানোর কাজ পুলিশের নয়। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম কল্লোল ঘোষ লক্ষ্মণের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
গত বছর বেসরকারি ব্যাংকটির ভাঙাকুঠি শাখায় সোনা বন্ধক রেখে ব্যবসার জন্য ঋণ পেতে আবেদন করে ছিল লক্ষ্মণ অধিকারী। পরে তার স্ত্রী মৌমিতা অধিকারী এবং দুই পরিচিত মিঠু পাইন ও সমিত গঙ্গোপাধ্যায়ও ঋণের আবেদন করে। ব্যাংকে তারা ৩১০১.৪১ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রাখে। সেই গয়না পরীক্ষা করে তা সোনার বলে জানায় দুই পরীক্ষক তপন ও সন্দীপ। তাদের কাছ থেকে সোনার ব্যাপারে শংসাপত্র মেলার পর ব্যাংক ৪ জনকে ১ কোটি ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩২৫ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে।
গত বছরের শেষের দিকে ব্যাংকের অডিটর বন্ধক রাখা সোনা পরীক্ষার কথা বলেন। তবে স্বর্ণপরীক্ষক বন্ধক রাখা গয়না নকল বলে মত দেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়। গ্রেফতারি এড়াতে অভিযুক্ত ৪ জনই আগাম জামিনের আবেদন করে ছিলেন। জেলা জজ মৌমিতা, মিঠু ও সমিতের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানির আগের দিন রাতে গ্রেফতার হওয়ায় অভিযুক্ত লক্ষণের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম।
এই ঘটনায় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে ছিল ? কিভাবে নকল সোনার বিনিময়ে ঋণ মঞ্জুর হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে ছিল? পাশাপাশি দ্বিতীয়বার বন্ধক রাখা গয়না পরীক্ষার সময় কেন ঋণ গ্রহীতাদের ডেকে পাঠানো হল না তা নিয়ে জেলা জজ প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে সিআইডি। নকল সোনা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে টাকা হাতানোর একটি চক্রও সক্রিয় বলে সিআইডির গোয়েন্দাদের অনুমান। সিআইডির এক অফিসার বলেন, বিষয়টি বেশ রহস্যজনক। কিভাবে নকল সোনা রেখে ঋণ মঞ্জুর হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।