
শেষ আপডেট: 28 August 2023 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দত্তপুকুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে (Duttapukur Blast) এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্তাদের যে কড়া শাস্তি হতে পারে, তা আগেই লিখেছিল 'দ্য ওয়াল'। সেই কথা মিলিয়েই আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন দত্তপুকুর কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার ও থানার ইনচার্জকে। তার পরেই এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, নীলগঞ্জ ফাঁড়ির ওসি হিমাদ্রি ডোগরা এবং দত্তপুকুর থানার আইসি শুভব্রত ঘোষকে সাসপেন্ড (OC and IC Suspended) করা হল।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দত্তপুকুরের ঘটনা নিয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন, পুলিশের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, 'কিছু কিছু পুলিশ টাকা তুলছে। বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও এটা কেন চলছে? বেআইনি বাজি কারখানা আমি আগেই বন্ধ করতে বলেছিলাম। তার পরেও কেন চলছে এই সব কারখানা? দত্তপুকুরের ঘটনা কী করে ঘটল? ওখানকার ওসি-আইসি-কে সাসপেন্ড করে দিন।'
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেআইনি বাজি মজুত, পুলিশ-প্রশাসনের গাফলতি বেআব্রু হল বারাসতে
গতকালই দ্য ওয়ালে লেখা হয়েছিল, দত্তপুকুর বিস্ফোরণে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি একেবারেই বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করার সাহস বারাসত ও দত্তপুকুর থানার কী করে হল সেই প্রশ্নও উঠেছে। কার প্রশ্রয়ে বেআইনি ভাবে বাজি কারখানা চলছিল সেই কৈফিয়তের মুখে পড়েছেন বারাসত পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ও জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী।ট
প্রসঙ্গত, মে মাসে এগরার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও তার পরবর্তী ইংরেজবাজার এবং বজবজ বিস্ফোরণের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুধু বেআইনি বাজি কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেননি, বাংলায় দুর্গাপুজো, দীপাবলি, ছট ও বড়দিন ছাড়া বাজি ফাটানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় বাংলায় আর পটকা ফাটানো যাবে না।
এমনকী দীপাবলি, ছটেও ২ ঘণ্টা করে কেবল গ্রিন ক্র্যাকার ফাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গ্রিন ক্র্যাকার বাদ দিয়ে রাজ্যে আর কোনও বাজি কারখানা চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছিল। গতকালের বিস্ফোরণে প্রশ্ন উঠেছিল, এত কড়া নিষেধাজ্ঞার পরেও দত্তপুকুরে ওই বেআইনি বাজি কারখানা চলতে দেওয়া হল কেন? এই মৃত্যুর দায় কার? স্থানীয় থানার, পুলিশ সুপারের না জেলাশাসক, মহকুমা শাসকের। নবান্নের এক শীর্ষ আমলা এদিন বলেন, বারাসতের ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার দায় সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে মুখ্য সচিবকে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।
ঠিক সেই মতোই, আজ সোমবার কড়া মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী, নির্দেশ দিলেন পুলিশকর্তাদের সাসপেন্ডেরও।
আজ, সোমবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কেউ কেউ বেআইনি কাজ করছেন এবং পুলিশ সেটা চোখ বুজে দেখছে।” থানাগুলো কী করছে সেই খবর যে তাঁর কাছে রয়েছে সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “লোকাল থানায় যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁরা কী করছেন, সেটা আর বললাম না!'
পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি নবান্নেও বলেন, 'কোনও কোনও থানার অফিসাররা নিয়ম মানছেন না, কাজ করছেন না।' এর পরেই ক্যাবিনেটের বৈঠকে সাসপেন্ডের কথা বলেন তিনি, পুলিশের টাকা তোলা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মূলত মুখ্যসচিবকেই এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেন তিনি।