দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তেলেভাজাকে শিল্পে উন্নীত করার কথা বলেছিলেন। তাতে কম কটাক্ষ হয়নি। সেই কটাক্ষকে যেন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের হিমাংশু সেন। মুখ্যমন্ত্রীর চপশিল্পের পরামর্শ অনেক দিন আগেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। চপ বেচেই বেকারদের পথ দেখাচ্ছেন বহু বছর ধরে।
এখন একে মহামারী পরিস্থিতি, তার উপর জ্বালানির চড়া দাম। বাজার দরও অগ্নিমূল্য। এসবের মধ্যেও রমরমিয়ে চলছে তাঁর চপের দোকান। তাও আবার চপের দাম মাত্র এক টাকা। এই করেই দিব্যি ব্যবসা বাড়িয়েছেন হিমাংশু। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের পাঁচড়া এলাকার এই তেলেভাজা-বিক্রেতা মনে করেন, এই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও 'ষোল আনা’ অর্থাৎ ১ টাকা পিস দরে চপ ও নানারকম তেলে ভাজা বিক্রি করেও উপার্জন করা যায়। বাস্তবেও এমনটা করে দেখিয়েছেন তিনি।
হিমাংশুবাবু জানান, একসময় দারিদ্রের সঙ্গে ছিল নিত্য লড়াই। রোজগারের বিকল্প আর কোনও পথ খুঁজে না পেয়ে তাঁর বাবা বিশ্বনাথ সেন বাড়ি লাগোয়া জায়গায় চপের দোকান খুলে বসেন। এলাকার মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা ৮০ পয়সা করে এক একটি চপ বিক্রি করতেন। কয়েক বছর হল তিনি মাত্র ২০ পয়সা দাম বাড়িয়ে এক টাকা করেছেন। স্থানীয় লোকজন তো আছেনই, দূর-দূরান্তের ক্রেতারাও আসেন।
পাঁচড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা হিমাংশুর বাড়ির কাছেই রয়েছে তাঁর চপ-তেলেভাজার দোকান। প্রতিদিন দুপুর ৩টেয় খুলে যায় সেই দোকান। দোকান খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে দোকানে। পরিবারের সবাই মিলে সামলান সেই দোকান। দোকানের একধারে বসে গ্যাসের উনুনে গরম তেলের কড়াইয়ে ফুলুরি, সিঙ্গারা, ভেজিটেবিল চপ, আলুর চপ ভাজেন হিমাংশুবাবু। এছাড়াও অল্পসল্প বিক্রি করেন ঘুগনি, রসগোল্লা, পান্তুয়া, ল্যাংচা, মাখা সন্দেশ-- এইসব। সবই তিনি নিজে তৈরি করেন।
দেখুন ভিডিও:
https://youtu.be/eg4lBoUtfR0
দোকানের বাকি কাজ সামলান হিমাংশুবাবুর স্ত্রী বন্দনাদেবী, ছেলে কাশীনাথ ও পুত্রবধূ শম্পা। চপ ভাজা থেকে শুরু করে চপ, ঘুগনি বিক্রির কাজ করতে গিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত সেন পরিবারের কেউ একমুহূর্ত ফুরসত পান না। প্রায় ৩০ বছর ধরে ১ টাকা দামে চপ-তেলেভাজা বিক্রি করেই হিমাংশুবাবু ও তাঁর পরিবার এখন এলাকার বিত্তশালীদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছেন।
প্রতিদিন ১০ কেজি বেসনের চপ-তেলেভাজা বিক্রি হয় হিমাংশুবাবুর দোকানে। প্রতিদিন লাগে ১ বস্তা আলু, ৫ কেজি মটর, হাজার টাকার সরষের তেল-সহ অন্যান্য সামগ্রী। হিমাংশু বাবু জানান, সব কেনাকাটা করে দোকান চালানোর জন্যে প্রতিদিন তাঁর প্রায় ৩৫০০ টাকার মতো খরচ হয়। দিনের শেষে ৫০০-৭০০ টাকা লাভ থাকে।