শেষ আপডেট: 27 December 2019 10:45
জলপাইগুড়িতে ওই গাছে পুজো শুরু করে দিয়েছেন ভক্তের দল।[/caption]
এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে শিবরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘দেবতার জন্ম’ গল্পের কথা। লেখক একটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে সেটি রাস্তা থেকে তুলে ফেলেছিলেন। তাড়া ছিল না বলেই রাস্তা খুঁড়ে পাথরটি বের করে কাছে একটি গাছের গোড়ায় রেখেছিলেন। পরের দিন সেই পাথরকে দেবতাজ্ঞানে পুজো শুরু হয়ে যায়। আচমকা ওই পাথরটিকে গাছের গোড়ায় দেখে লোকের দৃঢ় ধারণা হয়েছিল দেবতার আবির্ভাব হয়েছে। এটিও অনেকটা তেমনই।
তখন না হয় লেখক একটি পাথরকে রাস্তা থেকে তুলে পাশের গাছের নীচে রেখেছিলেন। এখানে তো দু’টি গাছের মাঝে কৃষ্ণবর্ণের পা দেখা গেছে! এ তো মানুষের কাজ হতে পারে না। আজকাল কার অত সময় আছে যে এসব করবে! আসলে এটি প্রাকৃতিক ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। বোট্যানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী (সায়েন্টিস্ট ডি) ডঃ মানস ভৌমিক এই ছবি দেখে বলেন, “এই ধরনের গাছ থেকে অনেক সময়ই আঠা বার হতে দেখা যায়। এটি গাছের আঠা বলেই মনে হচ্ছে।” বট-পাকুড়ের আঠা তো সাদা রঙের হয়, এইরকম ঘন বর্ণের তো হয় না। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ছবি দেখে মনে হচ্ছে এটি এক দিনে হয়নি, বেশ কিছুদিন ধরে আঠা বার হয়ে জমে এইরকম হয়েছে। কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে রং বদলে যেতে পারে, আবার গাছের কোনও সমস্যা থাকলেও তা হতে পারে। তবে যাই হোক না কেন, এটি প্রাকৃতিক ভাবেই হয়েছে।”
এটি অলৌকিক কোনও ঘটনা নয় বলে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পার্থসারথি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “এটি আমি চাক্ষুস করিনি, তবে পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এর আগেও অনেক বার অলৌকিক ঘটনার কথা প্রচার হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুজো-অর্চনাও শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা তার ব্যাখ্যা দিয়েছি। অলৌকিক কিছু যে ঘটেনি তা নিশ্চিত করেই বলতে পারি।”
বিজ্ঞানীরা যাই বলুন, যে দেশে পাথরের গণেশ দুধ খেতে পারে, সেই দেশে গাছ থেকে কেন মা কালীর পা বার হবে না? শোনা যাচ্ছে যে গাছে এই পায়ের দেখা মিলেছে, সেই গাছটিকে কী করা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শোনা যাচ্ছে একটি ক্লাবের সদস্যরাও এ নিয়ে পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছেন।